১৯৫ নং আয়াতের তাফসীর:
শানে নুযুল:
উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহ তা‘আলাকে হিজরতের ব্যাপারে মহিলাদের কোন কথা উল্লেখ করতে শুনি না। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (তিরমিযী হা: ৩০২৩, সহীহ)
“কোন পুরুষ অথবা নারী” এখানে পুরুষের সাথে নারীর কথা উল্লেখ করার কারণ হলো- ইসলামে কোন কোন বিষয়ে নর ও নারীর মধ্যে তাদের উভয়ের প্রাকৃতিক গুণাবলীর ভিন্নতার কারণে কিছু পার্থক্য করা হয়েছে। যেমন কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বে, জীবিকা উপার্জনের দায়িত্ব এবং জিহাদে অংশ গ্রহণ ও অর্ধেক মিরাস পাওয়ার ক্ষেত্রে। তাই এ পার্থক্যগুলো দেখে যেন মনে না করে যে, নেক আমলের প্রতিদানেও পুরুষ ও মহিলার মধ্যে পার্থক্য করা হবে। না, বরং প্রত্যেক নেকীর যে প্রতিদান একজন পুরুষকে প্রদান করা হবে সে পরিমাণ প্রতিদান একজন নারীকেও প্রদান করা হবে।
فَاسْتَجَابَ
আল্লাহ তা‘আলা তাদের দু‘আ কবূল করলেন। এখানে তিনি তাদের ৫টি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
১. যারা আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় হিজরত করে।
২. যাদেরকে শত্র“রা তাদের দেশ থেকে ঈমান আনার কারণে বহিষ্কার করেছে।
৩. যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে।
৪. যারা আল্লাহ তা‘আলার পথে কিতাল (যুদ্ধ) করে।
৫. যারা আল্লাহ তা‘আলার পথে শহীদ হয়।
যারা এসব বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হবে তাদের জন্য রয়েছে অপরাধসমূহের ক্ষমা, জান্নাতে প্রবেশ এবং আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অশেষ প্রতিদান। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এ সব বৈশিষ্ট্য অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. হিজরত ও জিহাদের ফযীলত জানলাম।
২. মু’মিন নর ও নারী সবাই আমলের প্রতিদান সমান হারে পাবে।