১২৭ নং আয়াতের তাফসীর:
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি এ আয়াতের ব্যাপারে বলেন: কোন ব্যক্তির নিকট কোন ইয়াতীম মেয়ে থাকলে সে তাকে লালন-পালন করত, তার সম্পদে উত্তরাধিকারী হয়ে যেত এমনকি বাগানেও শরীক হত। তখন মেয়েকে বিবাহ করার প্রতি উৎসাহিত হত এবং অন্যত্র বিবাহ দিত না এই ভয়ে যে, অন্য পুরুষ তার সম্পদে ভাগ বসাবে। (সহীহ বুখারী হা: ৪৪৭৪)
(وَمَا يُتْلٰي عَلَيْكُمْ)
‘যা পাঠ করে শুনানো হয়েছে’বলতে এ সূরার শুরুর আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যেখানে ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
لَا تُؤْتُوْنَهُنَّ
‘তোমরা প্রদান কর না’ অর্থাৎ তোমরা ইয়াতীম মেয়েদের সম্পদ হরণ করার জন্য বিবাহ কর কিন্তু বিবাহের মোহরানা প্রদান কর না। এবং নিজেরা বিবাহ না করলেও সম্পদ চলে যাবে বলে অন্যত্র বিবাহ দাও না।
এখানে দু’ভাবে পড়া যায় (১) في অব্যয় উহ্য ধরে, তখন অর্থ হবে: তাদেরকে তোমরা বিবাহ করতে আগ্রহী হলেও মোহরানা প্রদান কর না। عن অব্যয় উহ্য ধরে, তখন অর্থ হবে: তাদেরকে তোমরা বিবাহ করতে আগ্রহী নও। অর্থাৎ ইয়াতীম মেয়ে সুন্দর সুশ্রী হলে অভিভাবকরা বিবাহ করে নিত, আর কুশ্রী হলে অন্যত্র বিবাহ দিত না এই ভয়ে যে, অন্যজন সম্পদে ভাগ বসাবে। এখানে উভয় প্রকার জুলুম থেকেই নিষেধ করা হয়েছে।
(وَالْمُسْتَضْعَفِيْنَ مِنَ...)
‘অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে’ আর আল্লাহ তা‘আলা দুর্বল তথা ছোট শিশু ও নারীদের ব্যাপারেও ফাতওয়া দেবেন। তোমরা তোদের প্রাপ্ত অধিকার দিয়ে দাও। জাহিলী যুগের মত বঞ্চিত কর না। ইয়াতীমদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা বজায় রেখ।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ইসলামই সর্বপ্রথম মহিলা ও শিশুদের মীরাসের অধিকার প্রদান করেছে।
২. কারো প্রতি জুলুম না করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের নির্দেশ।