Sign in
Grow Beyond Ramadan!
Learn more
Sign in
Sign in
Select Language
7:175
واتل عليهم نبا الذي اتيناه اياتنا فانسلخ منها فاتبعه الشيطان فكان من الغاوين ١٧٥
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ٱلَّذِىٓ ءَاتَيْنَـٰهُ ءَايَـٰتِنَا فَٱنسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ ٱلشَّيْطَـٰنُ فَكَانَ مِنَ ٱلْغَاوِينَ ١٧٥
وَٱتۡلُ
عَلَيۡهِمۡ
نَبَأَ
ٱلَّذِيٓ
ءَاتَيۡنَٰهُ
ءَايَٰتِنَا
فَٱنسَلَخَ
مِنۡهَا
فَأَتۡبَعَهُ
ٱلشَّيۡطَٰنُ
فَكَانَ
مِنَ
ٱلۡغَاوِينَ
١٧٥
And relate to them ˹O Prophet˺ the story of the one to whom We gave Our signs, but he abandoned them, so Satan took hold of him, and he became a deviant.1
Tafsirs
Layers
Lessons
Reflections
Answers
Qiraat
Hadith
You are reading a tafsir for the group of verses 7:175 to 7:177

১৭৫-১৭৭ নং আয়াতের তাফসীর: এটা ছিল বানী ইসরাঈলের মধ্যকার একটি লোক। তার নাম ছিল বালআম ইবনে বাউর। (এটা আব্দুর রাযযাক (রঃ) হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন) কাতাদা (রঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তার নাম ছিল সায়ফী ইবনে রাহিব। কা'ব (রঃ) বলেন যে, সে ছিল বালকাবাসী এক লোক। সে ইসমে আ'যম জানতো। সে ইয়াহূদী আলিমদের সাথে বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থান করতো। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন। যে, সে ছিল ইয়ামনের অধিবাসী। আল্লাহ তা'আলা তাকে স্বীয় নিদর্শনাবলী ও কারামাত দান করেছিলেন। কিন্তু সে ঐগুলোর মর্যাদা দেয়নি। তার প্রার্থনা কবুল করা হতো। জনগণ বিপদ-আপদের সময় আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনার জন্যে তাকেই আগে বাড়িয়ে দিতো। আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ) দ্বীনের তাবলীগের জন্যে তাকে মাদইয়ান দেশে প্রেরণ করেন। সেখানকার বাদশাহ্ তাকে নিজের পক্ষে করে নেয় এবং বহু উপঢৌকন প্রদান করে। সে বাদশাহর দ্বীন কবুল করে নেয় এবং হযরত মূসা (আঃ)-এর দ্বীন পরিত্যাগ করে। তার নাম ছিল বালআ’ম। আবার এটাও বলা হয়েছে যে, সে হচ্ছে উমাইয়া ইবনে আবি সালাত। খুব সম্ভব এটা বলার উদ্দেশ্য এই হবে যে, এই উমাইয়াও ঐ লোকটির সাথে সাদৃশ্যযুক্ত ছিল। এই লোকটিও পূর্ববর্তী শরীয়তের জ্ঞান রাখতো। কিন্তু ওটা থেকে সে উপকার গ্রহণ করেনি। সে নবী (সঃ)-এর যুগও পেয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (রঃ)-এর নিদর্শনগুলো সে স্বচক্ষে দেখেছিল এবং তার মু'জিযাগুলো অবলোকন করেছিল। সে হাজার হাজার লোককে আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে প্রবেশ করতে দেখেছে। কিন্তু মুশরিকদের সাথে মেলামেশা, তাদের মধ্যে তার সম্মান ও মর্যাদা এবং নেতৃত্ব লাভ তাকে ইসলাম ও সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। বদর যুদ্ধে নিহত কাফিরদের জন্যে বড় বড় শাক গাঁথা সে রচনা করেছিল। তার মুখ তো ঈমান এনেছিল, কিন্তু তার অন্তর মুমিন হয়নি। খুব সম্ভব এই সমুদয় ঘটনা উমাইয়া ইবনে আবি সালাতের সাথেই সম্পর্কযুক্ত, বালআ’মের সাথে নয়।বালআমের বর্ণনা কুরআন কারীমের মধ্যে এইভাবে হচ্ছে- ‘আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ অর্থাৎ কারামাত দান করেছিলাম। কিন্তু সে তা থেকে সরে পড়ে অর্থাৎ বঞ্চিত হয়। আল্লাহ তা'আলা তাকে তিনটি দুআর অধিকার দিয়েছিলেন যে, সেগুলো কবুল হবে। তার একটি স্ত্রী ও একটি পুত্র ছিল। তার স্ত্রী তাকে বললোঃ “তুমি আমার জন্যে একটি দু'আ নির্দিষ্ট করে নাও”। সে বললো, “আচ্ছা, কি দুআ বল।” স্ত্রী বললোঃ “আল্লাহর নিকট দু'আ কর যে, আল্লাহ তা'আলা যেন আমাকে বানী ইসরাঈলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী করে দেন।” সে তখন আল্লাহ তা'আলার নিকট ঐ দু'আই করলো। ফলে তার স্ত্রী সর্বাপেক্ষা সুন্দরী নারীতে পরিণত হয়ে গেল। তার স্ত্রী যখন অনুভব করলো যে, তার মত সুন্দরী নারী আর নেই তখন সে তার স্বামীকে অগ্রাহ্য করে বসলো এবং তার প্রতি অনীহা প্রকাশ করলো। আর তার ধারণা ও কার্যাবলী অন্যরূপ হয়ে গেল। তখন বালআম দুআ করলো যে, যেন তার স্ত্রী কুকুরী হয়ে যায় । সুতরাং সে কুকুরী হয়ে গেল। এভাবে দু’টি দুআ শেষ হয়ে গেল। তার ছেলেটি তখন তাকে বললোঃ “আব্বা! আমার মা কুকুরী হয়ে থাকবে এটাতো আমাদের জন্যে মোটেই শোভনীয় নয়। জনগণ আমাদের নিন্দে করছে। সুতরাং আপনি দুআ করুন যেন আমার মা পূর্বাবস্থায় চলে আসে। সে তখন দুআ করলো। ফলে তার স্ত্রী পূর্বে যেমন ছিল তেমনি হয়ে গেল। এখন তিনটি দুআ’ই শেষ হয়ে গেল। এই বর্ণনাটি গারীব।এই আয়াতটির প্রসিদ্ধ শানে নুযূল এই যে, বানী ইসরাঈলের যুগে একটি লোক ছিল। সে জাব্বারীন ইয়াহূদীদের শহরে বাস করতো। সে ইসমে আযম জানতো। কথিত আছে যে, তার দুআ আল্লাহর পক্ষ থেকে গৃহীত হতো। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর কথা, যা কোন কোন লোক বলে থাকে তা এই যে, সে নবী ছিল, কিন্তু নবুওয়াত তার থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। ইবনে জারীর (রঃ)-এর এরূপ উক্তি রয়েছে। কিন্তু এটা মোটেই সঠিক নয়।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, হযরত মূসা (আঃ) যখন জাব্বারীনদের শহরে আগমন করেন তখন বালআ’মের কাছে তার লোকেরা এসে বলেঃ “মূসা (আঃ) একজন লৌহমানব। তার সাথে বিরাট সেনাবাহিনী রয়েছে। যদি তিনি আমাদের উপর জয়যুক্ত হন তবে আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবো। সুতরাং আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করুন যেন মূসা (আঃ) এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের বিপদ আমাদের থেকে দূরীভূত হয়।” সে বললোঃ “যদি আমি এই দুআ করি তবে আমার দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ই নষ্ট হয়ে যাবে।” কিন্তু জনগণ পীড়াপীড়ি করায় সে ঐরূপ দুআ করলো। ফলে আল্লাহ তা'আলা তার বুযুগী ও কারামাত ছিনিয়ে নেন। তাই আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ সে কারামাত থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল এবং শয়তান তার পিছনে লেগে পড়লো। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, যখন মূসা (আঃ)-এর জন্যে তীহের ময়দানে চল্লিশ বছরের চক্র শেষ হয়ে গেল তখন আল্লাহ তা'আলা ইউশা ইবনে নূন (আঃ)-কে নবী করে পাঠালেন। তিনি বানী ইসরাঈলকে নিজের নবী হওয়ার সংবাদ দিলেন এবং এ খবরও দিলেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে জাব্বারীনদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। জাব্বারীনরা হযরত ইউশা (আঃ)-এর বায়আত গ্রহণ করে এবং তার সত্যতা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু বানী ইসরাঈলের বালআম নামক একটি লোক অবাধ্যাচরণ করতঃ জাব্বারীনদের কাছে গমন করে এবং তাদেরকে বলেঃ “ভয় করো না। যখন তোমরা যুদ্ধের জন্যে বের হবে তখন আমি বদ দুআ’র হাতিয়ার কাজে লাগাবো এবং তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।” জাব্বারীনদের কাছে বালআমের পার্থিব সুখ-সম্ভোগের সব কিছুই বিদ্যমান ছিল। কিন্তু তাদের স্ত্রীদের নিকট থেকে কোনই উপকার লাভ করতে পারতো না। কেননা, ঐ স্ত্রীলোকদের শ্রেষ্ঠত্ব তার উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। সে শুধুমাত্র নিজের গর্দভী অর্থাৎ স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখতো। এখন শয়তান তার পিছনে লেগে গেল। অর্থাৎ সে শয়তানের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে পড়লো। সুতরাং সে শয়তানের আদেশ পালন করতে শুরু করলো।(আরবী) অর্থাৎ “সে পথভ্রষ্টদের বা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অথবা উড্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।” ভাল লোকও কোন সময় মন্দ লোকে পরিণত হয়। এই আয়াতের অর্থের ব্যাপারে হাদীস এসেছে। হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের ব্যাপারে আমি এই প্রকারের কিছুটা আশংকা করে থাকি। যেমন ঐ ব্যক্তি, যার কুরআনের জ্ঞান ছিল। কুরআনের বরকত ও সৌন্দর্য তার চেহারায় প্রকাশমান ছিল এবং তার ইসলামী শান-শওকতও ছিল। কিন্তু আল্লাহর দেয়া দুর্ভাগ্য তাকে ঘিরে ফেলে। ইসলামের নির্দেশাবলী সে পৃষ্ঠ-পিছনে ছুঁড়ে ফেলে। সে তার প্রতিবেশীর উপর তরবারী দ্বারা আক্রমণ চালায় এবং তাকে শিরকের অপবাদ দেয়।” বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী (সঃ)! অপবাদদাতা অপরাধী ছিল, না যার উপর অপবাদ দেয়া হয়েছিল সেই অপরাধী ছিল? তিনি উত্তরে বললেনঃ “অপবাদদাতাই অপরাধী ছিল।” (এটা হাফিয আবু ইয়ালা আল মূসিলী (রঃ) তাখরীজ করেছেন। ইবনে কাসীর (রঃ) বলেনযে, এর ইসনাদ খুবই উত্তম)ইরশাদ হচ্ছে- আমি ইচ্ছা করলে তাকে এই আয়াতসমূহের সাহায্যে উন্নত করতাম। কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে এবং স্বীয় কামনা বাসনার অনুসরণ করতে থাকে। সে এমনভাবে দুনিয়ার ফাঁদে পড়ে যায় যেমনভাবে কোন অজ্ঞান লোক পড়ে থাকে। সে শয়তানের সহকর্মী হয়ে যায় এবং নীচতা ও হীনতা অবলম্বন করে। তার সওয়ারী আল্লাহকে সিজদা করে, কিন্তু সে সিজদা করে শয়তানকে। এই আয়াতের ব্যাপারে ইবনে সিয়ার (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত মূসা (আঃ) বানী ইসরাঈলকে নিয়ে ঐ ভূ-খণ্ডের অভিমুখে রওয়ানা হন যেখানে বালআম বাস করতো অথবা তিনি সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। হযরত মূসা (আঃ) ও তার সেনাবাহিনীর আগমন বার্তায় তথাকার লোক ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তারা বালআমের কাছে এসে বলেঃ “মূসা (আঃ) ও তাঁর সেনাবাহিনীর জন্যে বদ দুআ করুন।” তখন সে বলেঃ “তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আমার প্রতিপালকের সাথে পরামর্শ করে নেই।” অতঃপর সে পরামর্শ করলে তাকে বলা হয়ঃ “না বদ দুআ করো না। কেননা, তারা আমার বান্দা। তাছাড়া তাদের মধ্যে আমার নবীও বিদ্যমান রয়েছে। তখন সে তার সম্প্রদায়ের লোকদেরকে বললোঃ “আমি আমার প্রভুর সাথে পরামর্শ করেছি। তিনি আমাকে বদ দুআ করতে নিষেধ করেছেন। এরপর জনগণ তার কাছে বহু উপঢৌকন পাঠিয়ে দেয়। তার উচিত ছিল ঐগুলো গ্রহণ না করা। কিন্তু সে ওগুলো গ্রহণ করে নেয়। তারপর লোকেরা আবার তাকে বদ দুআ করার জন্যে পীড়াপীড়ি শুরু করে দেয়। সে বলেঃ “আচ্ছা, পুনরায় আমি পরামর্শ করে দেখি।” এবার কিন্তু তাকে কোনই পরামর্শ দেয়া হলো না। সে জনগণকে বললোঃ “এবার তো আমাকে কোনই পরামর্শ দেয়া হয়নি। কাজেই আমি বদ দুআ করতে পারি না।” কিন্তু জনগণ তাকে বিভ্রান্ত করে ফেললো। তারা তাকে বললোঃ “যদি এতে আল্লাহর সম্মতি না থাকতো তবে পূর্বের ন্যায় এবারও বদ দুআ করতে আপনাকে নিষেধ করে দিতেন। আল্লাহ তা'আলা যখন নীরব রয়েছেন তখন বুঝা যাচ্ছে যে, এতে তাঁর সম্মতি আছে। তাদের এ কথায় বালআম প্রতারিত হয়ে পড়লো। সুতরাং সে মূসা (আঃ) ও তার সেনাবাহিনীর উপর বদ দুআ করতে শুরু করলো। যখনই সে বদ দুআ’র শব্দ মূসা (আঃ)-এর জন্যে বের করতে চাইতো তখনই তার মুখ দিয়ে তার নিজের কওমের জন্যে বদদুআ’র শব্দ বেরিয়ে পড়তো। নিজের কওমের জন্যে বিজয়ের শব্দ বের করতে চাইলে হযরত মূসা (আঃ)-এর বিজয়ের শব্দ তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতো। অথবা দুআ’র শেষে। ইনশাআল্লাহ শব্দটি বেরিয়ে পড়তো। কাজেই বদ দুআ শর্তযুক্ত হওয়ার কারণে ব্যর্থ হয়ে যেতো। লোকেরা তখন তাকে বললোঃ “আপনি যে মূসা (আঃ)-এর পরিবর্তে আমাদের উপরই বদ দুআ করছেন।” সে বললোঃ “আমি করবো কি? অনিচ্ছাকৃত ভাবেই আমার মুখ দিয়ে এগুলো বেরিয়ে পড়ছে। আমার এখন পূর্ণ বিশ্বাস হয়ে গেছে যে, আমি বদ দুআ করলেও তা কবুল হবে না। এখন আমি তোমাদেরকে একটি তদবীর শিখিয়ে দিচ্ছি। এটা করলে এ লোকগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। দেখো! আল্লাহ তা'আলা ব্যভিচারকে হারাম করেছেন। তিনি ব্যভিচার কার্যে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। যদি এই লোকগুলোকে কোন রকমে ব্যভিচারে জড়িত করে দেয়া যায় তবে অবশ্যই তাদের ধ্বংসের আশা রয়েছে। অতএব তোমরা এই কাজ কর যে, তোমাদের স্ত্রীদেরকে মূসা (আঃ)-এর সেনাবাহিনীর মধ্যে পাঠিয়ে দাও। এরা তো স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে ছেড়ে বিদেশে পড়ে আছে, সুতরাং তারা যে ব্যভিচারে জড়িত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই।” তার কথামত লোকগুলো ঐ কাজই করলো। তারা তাদের স্ত্রীদেরকে হযরত মূসা (আঃ)-এর সেনাবাহিনীর নিকট পাঠিয়ে দিলো। এমন কি তাদের বাদশাহর কন্যাও ছাড়া পড়লো না। শাহজাদীকে তার পিতা অথবা বালআম বলে দিলো যে, সে যেন হযরত মূসা (আঃ) ছাড়া আর কারো ব্যবহারে না আসে। কথিত আছে যে, সত্যিই লোকগুলো ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। শাহজাদীর কাছে বানী ইসরাঈলের একজন সর্দার এসে গেল এবং তার থেকে কাম বাসনা পূর্ণ করতে চাইলো। বাদশাহর কন্যা তাকে বললো যে, সে মূসা (আঃ) ছাড়া আর কাউকেও তার সাথে জড়িত হতে দেবে না। সর্দার বললোঃ “আমি উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছি এবং আমার এই শান-শওকত রয়েছে।” কন্যা তখন তার পিতাকে চিঠি লিখে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইলো । পিতা তাকে অনুমতি দিলো । তারা দু’জন তখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে পড়লো। এমতাবস্থায় হযরত হারূন (আঃ)-এর এক ছেলে তথায় উপস্থিত হলেন। তাঁর হাতে একটি বর্শা ছিল । তিনি তাদের উপর এমন জোরে বর্শা মেরে দিলেন যে তারা দু'জনই একই বর্শায় গেঁথে গেল। তিনি সেই বর্শাকে উচু করে ধরে জনগণের সামনে আসলেন এবং তারা ঐ দু’জনকে ঐ অবস্থায় স্বচক্ষে দেখে নিলো । আল্লাহ তা'আলা বানী ইসরাঈলের উপর মহামারীর শাস্তি নাযিল করলেন। ফলে সত্তর হাজার লোক মারা গেল। ইবনে সিয়ার (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, বালআম স্বীয় গর্দভীর ওপর সওয়ার হয়ে মা’লী নামক জায়গা পর্যন্ত আসলো। এখান থেকে তার সওয়ারী আর আগে বাড়ে না। সে ওকে মারতে শুরু করলো, কিন্তু ওটা বসেই যাচ্ছিল। আল্লাহ তা'আলা ওকে বাকশক্তি দান করলেন। গর্দভীটি তখন বালআমকে বললোঃ “তুমি আমাকে মারছো কেন? সামনে দেখো কে আছে?” সে দেখলো যে শয়তান দাড়িয়ে আছে। সে নেমে গিয়ে শয়তানকে সিজদা করলো। এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ (আরবী)সালিম (রঃ) আবূ নযর (রঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত মূসা (আঃ) যখন সিরিয়া হতে বানী কিনআ’নে আসেন তখন বালআমকে তার কওমের লোকেরা বলেঃ “মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়সই আমাদের দেশে আসছেন। তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদেরকে হত্যা করে আমাদের এখানে তার লোকদেরকে বসিয়ে দেয়া। আমরা আপনার কওমেরই লোক। আমাদের অন্য কোন বাসস্থান নেই। আল্লাহ তা'আলা আপনার দুআ কবুল করে থাকেন। সুতরাং আপনি তাদের জন্যে মহান আল্লাহর নিকট বদ দুআ করুন।” সে বললোঃ “তোমরা নিপাত যাও! মূসা (আঃ) হচ্ছেন আল্লাহর নবী। তার সাহায্যার্থে ফেরেশতারাও রয়েছেন। এবং মুমিনরাও রয়েছেন। সুতরাং আমি তাঁদের উপর কিরূপে বদ দুআ করতে পারি? আমি যা জানি তা জানিই।” তার ললাকেরা তখন বললোঃ “তাহলে আমরা থাকবো কোথায়?” এভাবে সব সময় তারা তার উপর চাপ দিতে থাকে এবং বিনীতভাবে বদ দুআ করার জন্যে তার কাছে আবেদন জানাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সে পরীক্ষায় নিক্ষিপ্ত হয়। সে স্বীয় গর্দভীর উপর সওয়ার হয়ে একটি পাহাড় অভিমুখে গমন করে, যে পাহাড়ের উপর চড়ে সে বানী ইসরাঈলের সেনাবাহিনীকে দেখতে পাবে। ঐ পাহাড়টিকে হাসান পাহাড় বলা হয়। কিছু দূর গিয়ে তার গর্দভীটি বসে পড়ে। সে তখন নেমে গর্দভীকে মারতে শুরু করে। কিছুদূর গিয়ে আবার সে বসে পড়ে। বার বার যখন তাকে মারতে থাকে তখন আল্লাহ তাকে বাশক্তি দান করেন। সে বলে ওঠে- “হে বালআ'ম! তুমি আমাকে কোন্ দিকে নিয়ে যাচ্ছ? তুমি কি দেখছো না যে, ফেরেশতা আমার সামনে রয়েছেন? তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে পিছনে সরিয়ে দিচ্ছেন। তুমি আল্লাহর নবী ও মুমিনদের উপর বদ দুআ করতে যাচ্ছ!” সে কিন্তু তবুও বিরত হলো না। পুনরায় সে গর্দভীকে মারতে শুরু করলো। এবার আল্লাহর নির্দেশক্রমে সে হাসবান নামক পাহাড়ের উপর উঠে গেল। ওখানে পৌছে বালআম হযরত মূসা (আঃ) ও মুমিনদের উপর বদ দুআ করতে শুরু করে দিলো। কিন্তু তার জিহ্বা উল্টে যাচ্ছিল। তার মুখ দিয়ে তার কওমের জন্যে বদ দুআ' এবং মূসা (আঃ)-এর জন্যে ভাল দুআ বের হচ্ছিল। কথিত আছে যে, বদ দুআ করার সময় তার জিহ্বা বাইরে বেরিয়ে পড়েছিল এবং তার বক্ষের উপর লম্বা হয়ে লটকে গিয়েছিল। তখন সে বলে উঠেছিলঃ “আমার দুনিয়াও গেল, দ্বীনও গেল।” কওমের লোককে সে বললোঃ “এখন শুধু প্রতারণা ও কৌশল দ্বারা কাজ নেয়া যেতে পারে। তোমরা নিজেদের মেয়েদেরকে সুন্দর সুন্দর সাজে সজ্জিত করে বানী ইসরাঈলের সৈন্যদের মধ্যে পাঠিয়ে দাও। তাদেরকে বলে দাও যে, তারা যেন ঐ পুরুষ লোকদেরকে তাদের দিকে আকৃষ্ট করে নেয়। যদি একটি লোকও ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ে তবে জেনে রেখো যে, তোমাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।” তার কথামত নারীদেরকে বানী ইসরাঈলের সেনাবাহিনীর মধ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়।কিনআ'নবাসীর একটি স্ত্রীলোকের নাম ছিল কাসবতী। সুর নামক একটি লোক ছিল কওমের সর্দার ও বাদশাহ্। কাসবতী ছিল তারই কন্যা। এই কাসবতীর মিলন ঘটে যামরী ইবনে শালুম নামক বানী ইসরাঈলের এক সর্দারের সাথে। এই যামরী ছিল শামউন ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে। ইবরাহীমের পৌত্র। সে ছিল কওমের সর্দার। সে কাসবতীকে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। সে তার হাত ধরে হযরত মূসা (আঃ)-এর নিকট নিয়ে গেল এবং তাকে বললোঃ “হে মূসা (আঃ)! আপনি হয়তো এ কথাই বলবেন যে, এ মেয়েটি তোমার জন্যে হারাম। সুতরাং তুমি তার কাছে যেয়ো না।” হযরত মূসা (আঃ) বললেনঃ “হ্যা! এ নারী তোমার জন্যে হারাম।” সে তখন বললোঃ “হে মূসা (আঃ)! আল্লাহর কসম! এখানে তো আমি আপনার কথা মানবো না।” অতঃপর সে মেয়েটিকে তার তাঁবুতে নিয়ে গেল এবং তাকে নিয়ে একই বিছানায় রাত্রি কাটালো। আল্লাহ তা'আলা বানী ইসরাঈলের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে দিলেন। ফানহাস ইবনে আনীরার ইবনে হারূন নামক কওমের সর্দার যামরী ইবনে শালুমের এই কাজের সময় সেখানে উপস্থিত ছিল না। যামরীর এই দুষ্কার্যের ফলে বানী ইসরাঈলের সমস্ত কওমের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফানহাস এই সমুদয় ঘটনা অবগত হয়। সে স্বীয় লৌহ-বর্শাটি উঠিয়ে নিয়ে যামরীর তাঁবুতে প্রবেশ করে। ঐ সময় তারা দু'জন শায়িত অবস্থায় ছিল। দু’জনকেই সে একই বর্শায় গেঁথে নেয় এবং ঐ অবস্থাতেই বর্শাটিকে মাথায় উঠিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। ফানহাস ছিল যুবক ও শক্তিশালী লোক। সে বলতে বলতে যাচ্ছিলঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নাফরমান বান্দার সাথে এই ব্যবহার করলাম। সুতরাং আপনি মহামারী দূর করে দিন!” আল্লাহ পাক মহামারী দুর করলেন। ঐ মহামারীতে বানী ইসরাঈলের সত্তর হাজার লোক অথবা কমপক্ষে বিশ হাজার লোক মারা যায়। (এটা মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) সালিম (রঃ) ও আবু নযর (রঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীর (রঃ) অনুরূপভাবে এটা তাখরীজ করেছেন এবং তাতে রয়েছে যে, কিছু সংখ্যক সৈন্য কর্তৃক ব্যভিচার কার্য সংঘটিত হয় যারা হযরত মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে ছিল। আল্লাহ তা'আলা তখন তাদেরকে মহামারী দ্বারা আক্রান্ত করেন। তাতে সত্তর হাজার লোক মারা যায়) ফানহাসের এই কার্যের কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে বানী ইসরাঈল যখনই কিছু যবেহ করতো তখন ওর মাথা ও সামনের পা এবং নিজেদের ফলমূলের প্রথম জিনিস তার (ফানহাসের) সন্তানদেরকে নানা স্বরূপ প্রদান করতো।(আরবী)-এই আয়াতের তাফসীরে মুফাসসিরদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, বালআ’মের জিহ্বা লটকে তার বক্ষে গিয়ে পড়েছিল। তাই, তার দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে কুকুরের সঙ্গে যে, যদি তাকে কষ্ট দেয়া হয় তবে সে হাঁপাবে এবং কষ্ট না দিলেও হাঁপাবে। তদ্রপ বালআ’মেরও অবস্থা যে, তার উপর কারামাত নাযিল হাক অথবা দুঃখ-বেদনা নাযিল হাক, একই কথা। অথবা এই দৃষ্টান্ত তার পথভ্রষ্টতা এবং তাকে ঈমানের দিকে ডাকা বা না ডাকা উভয় অবস্থাতেই তার দ্বারা উপকৃত না হওয়ার ব্যাপারে কুকুরের সাথে দেয়া হয়েছে যে, তাকে তাড়ালেও সে জিহ্বা লটকিয়ে হাঁপাবে এবং না তাড়ালেও হাঁপাবে। তদ্রুপ বালআমকেও যদি ঈমানের দিকে আহ্বান করা যায় তবে তার দ্বারা সে উপকার গ্রহণ করবে না এবং আহ্বান না করলেও উপকার লাভ করবে না। এই ধরনেরই একটি কথা আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেছেনঃ “তুমি তাদেরকে ভয় প্রদর্শন কর বা না কর, তারা ঈমান আনবে না।” এইরূপ আর একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর, আল্লাহ কখনও তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।” অথবা এর অর্থ এও হতে পারে যে, কাফির মুনাফিক এবং পথভ্রষ্ট লোকের অন্তর দুর্বল হয় এবং তা হিদায়াত শূন্য থাকে। যতই চেষ্টা করা যাক না কেন তারা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে না।' (অনুরূপ বর্ণনা হাসান বসরী (রঃ) প্রমুখ গুরুজন হতে নকল করা হয়েছে)আল্লাহ পাক স্বীয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ হে রাসূল (সঃ)! তুমি জনগণকে এ ঘটনাগুলো শুনিয়ে দাও, যাতে তারা বানী ইসরাঈলের অবস্থা অবহিত হওয়ার পর চিন্তা-ভাবনা করতঃ আল্লাহর পথে এসে যায় এবং চিন্তা করে যে, বালআ’মের অবস্থা কি হয়েছিল। আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান রূপ মহামূল্যবান সম্পদকে সে দুনিয়ার নগণ্য আরাম ও বিলাসিতার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। শেষে সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারিয়ে ফেলে । অনুরূপভাবে এই ইয়াহূদী আলেমরা যারা তাদের কিতাবসমূহে আল্লাহর হিদায়াত পাঠ করছে এবং তোমার গুণাবলী তাতে লিপিবদ্ধ দেখছে, তাদের উচিত হবে দুনিয়ার মোহে নিমজ্জিত হয়ে শিষ্যদেরকে ভুল পথে চালিত না করা। নতুবা তারাও ইহকাল ও পরকাল দু-ই হারাবে। তাদের কর্তব্য হবে যে, তারা যেন তাদের জ্ঞান দ্বারা উপকার লাভ করে এবং তোমার আনুগত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আর অন্যদের কাছেও যেন সত্য কথা প্রকাশ করে দেয়। দেখো! কাফিরদের দৃষ্টান্ত কতই না জঘন্য যে, তারা কুকুরের মত শুধু খাদ্য ভক্ষণ ও কুপ্রবৃত্তির মধ্যে পড়ে রয়েছে! সুতরাং যে কেউই ইলম ও হিদায়াতকে ছেড়ে দিয়ে কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার কাজে লেগে পড়বে সে-ই হবে কুকুরের মত । যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জঘন্য দৃষ্টান্ত যেন আমাদের উপর প্রয়োগ করা না হয়। অর্থাৎ কাউকে দেয়ার পর তা যে ব্যক্তি পুনরায় ফিরিয়ে নেয় তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ কুকুরের মত যে বমি করার পর পুনরায় তা খেয়ে নেয়।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে) ইরশাদ হচ্ছে। তারা নিজেরা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে। কেননা, তারা হিদায়াতের অনুসরণ করেনি। তারা দুনিয়া ও দুনিয়ার ভোগ বিলাসের মধ্যে পতিত হয়েছে। এটা আল্লাহর অত্যাচার নয়।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Read, Listen, Search, and Reflect on the Quran

Quran.com is a trusted platform used by millions worldwide to read, search, listen to, and reflect on the Quran in multiple languages. It provides translations, tafsir, recitations, word-by-word translation, and tools for deeper study, making the Quran accessible to everyone.

As a Sadaqah Jariyah, Quran.com is dedicated to helping people connect deeply with the Quran. Supported by Quran.Foundation, a 501(c)(3) non-profit organization, Quran.com continues to grow as a free and valuable resource for all, Alhamdulillah.

Navigate
Home
Quran Radio
Reciters
About Us
Developers
Product Updates
Feedback
Help
Our Projects
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Quran.AI
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Non-profit projects owned, managed, or sponsored by Quran.Foundation
Popular Links

Ayatul Kursi

Yaseen

Al Mulk

Ar-Rahman

Al Waqi'ah

Al Kahf

Al Muzzammil

SitemapPrivacyTerms and Conditions
© 2026 Quran.com. All Rights Reserved