প্রবেশ কর
রমজানের পরেও আত্মোন্নতি চালিয়ে যান
আরও জানুন
প্রবেশ কর
প্রবেশ কর
ভাষা নির্বাচন কর
২:১৬৪
ان في خلق السماوات والارض واختلاف الليل والنهار والفلك التي تجري في البحر بما ينفع الناس وما انزل الله من السماء من ماء فاحيا به الارض بعد موتها وبث فيها من كل دابة وتصريف الرياح والسحاب المسخر بين السماء والارض لايات لقوم يعقلون ١٦٤
إِنَّ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَـٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱلْفُلْكِ ٱلَّتِى تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ وَمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن مَّآءٍۢ فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍۢ وَتَصْرِيفِ ٱلرِّيَـٰحِ وَٱلسَّحَابِ ٱلْمُسَخَّرِ بَيْنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ لَـَٔايَـٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ١٦٤
اِنَّ
فِىۡ
خَلۡقِ
السَّمٰوٰتِ
وَالۡاَرۡضِ
وَاخۡتِلَافِ
الَّيۡلِ
وَالنَّهَارِ
وَالۡفُلۡكِ
الَّتِىۡ
تَجۡرِىۡ
فِى
الۡبَحۡرِ
بِمَا
يَنۡفَعُ
النَّاسَ
وَمَآ
اَنۡزَلَ
اللّٰهُ
مِنَ
السَّمَآءِ
مِنۡ
مَّآءٍ
فَاَحۡيَا
بِهِ
الۡاَرۡضَ
بَعۡدَ
مَوۡتِهَا
وَبَثَّ
فِيۡهَا
مِنۡ
کُلِّ
دَآ بَّةٍ
وَّتَصۡرِيۡفِ
الرِّيٰحِ
وَالسَّحَابِ
الۡمُسَخَّرِ
بَيۡنَ
السَّمَآءِ
وَالۡاَرۡضِ
لَاٰيٰتٍ
لِّقَوۡمٍ
يَّعۡقِلُوۡنَ‏
١٦٤
নিশ্চয়ই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে, রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে, লোকের উপকারী দ্রব্যাদিসহ সমুদ্রে চলাচলকারী জলযানের মধ্যে এবং আকাশ হতে আল্লাহর বর্ষিত সেই পানির মধ্যে যদ্বারা তিনি পৃথিবীকে- মরে যাওয়ার পর আবার জীবিত করেন এবং তাতে সকল প্রকার জীব-জন্তুর বিস্তারণে এবং বাতাসের গতি পরিবর্তনের মধ্যে এবং আকাশ ও ভূমন্ডলের মধ্যস্থলে নিয়ন্ত্রিত মেঘপুঞ্জের মধ্যে বিবেকসম্পন্ন লোকেদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।
তাফসির
ধাপ বা পর্যায়সমূহ
পাঠ
প্রতিফলন
উত্তর
কিরাত
হাদিস
সম্পর্কিত আয়াত

১৬৪ নং আয়াতের তাফসীর:

শানে নুযূল:

ইবনু আবি হাতিম, আতা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মদীনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর

(وَاِلٰھُکُمْ اِلٰھٌ وَّاحِدٌﺆ لَآ اِلٰھَ اِلَّا ھُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِیْمُ)

এ আয়াতটি নাযিল হয়। তখন মক্কার কাফির কুরাইশগণ বলতে লাগল, কিভাবে একজন মা‘বূদ সমগ্র বিশ্বের বন্দোবস্তু করবেন? তখন

(إِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ)

আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবে নুযূল, পৃঃ ৩৪, ইবনু কাসীর, ১/৪৩২) অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা একত্ববাদের প্রমাণস্বরূপ সাতটি নিদর্শনের আলোকপাত করেছেন। যা তাওহীদে রুবুবিয়্যার ওপর প্রমাণ বহন করে। এসব নিদর্শন কেবল তারাই ঝুঝতে পারবে যারা বিবেকসম্পন্ন।

এরূপ অন্য আরেকটি আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(اِنَّ فِیْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافِ الَّیْلِ وَالنَّھَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الْاَلْبَابِ)

“নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টির মধ্যে এবং দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য স্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে।”(সূরা আলি-ইমরান ৩:১৯০)

১ম নিদর্শন: خَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির মধ্যে লক্ষণীয় দিকসমূহ:

* আল্লাহ তা‘আলা আকাশকে সৃষ্টি করেছেন খুঁটি ছাড়া-

(اَللہُ الَّذِیْ رَفَعَ السَّمٰوٰتِ بِغَیْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَھَا)

“আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে আকাশমণ্ডলী স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত- তোমরা এটা দেখছ।”(সূরা রা‘দ ১৩:২) অনুরূপ সূরা লুকমানের ১০ নং আয়াতে বলা হয়েছে।

* সাতটি আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন-

(الَّذِیْ خَلَقَ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا)

“তিনি সাতটি আকাশ ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে।”(সূরা মুলক ৬৭:২)

* দুনিয়ার আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সুশোভিত করেছেন-

(وَلَقَدْ زَیَّنَّا السَّمَا۬ئَ الدُّنْیَا بِمَصَابِیْحَ)

“আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা (তারকারাজী) দ্বারা।”(সূরা মুলক ৬৭:৫)

* আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী আল্লাহ তা‘আলার আদেশে স্থির থাকা-

(وَمِنْ اٰیٰتِھ۪ٓ اَنْ تَقُوْمَ السَّمَا۬ئُ وَالْاَرْضُ بِاَمْرِھ۪)

“আর তার দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, তারই আদেশে আসমান ও জমিন স্থির আছে।”(সূরা রুম ৩০:২৫)

* আকাশকে ছাদস্বরূপ ও সুউচ্চ করেছেন-

(وَالسَّمَاء بِنَاء)

“আকাশকে ছাদস্বরূপ করেছেন।”(সূরা বাকারাহ ২:২২)

(وَإِلَي السَّمَآءِ كَيْفَ رُفِعَتْ)

“এবং আকাশের দিকে যে, কিভাবে ওটাকে সমুচ্চ করা হয়েছে?” (সূরা গাশিয়াহ ৮৮:১৮)

* জমিনকে বিছানাস্বরূপ বানিয়েছেন-

(الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا)

“যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা স্বরূপ করেছেন।”(সূরা বাকারাহ ২:২২)

* জমিনকে চলার উপযোগী করে দিয়েছেন-

(ھُوَ الَّذِیْ جَعَلَ لَکُمُ الْاَرْضَ ذَلُوْلًا فَامْشُوْا فِیْ مَنَاکِبِھَا وَکُلُوْا مِنْ رِّزْقِھ۪ﺚ وَاِلَیْھِ النُّشُوْرُ)

“তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে চলাচলের উপযোগী করেছেন; অতএব তোমরা ওর দিক-দিগন্তে ও রাস্তাসমূহে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক হতে আহার কর, তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।”(সূরা মুলক ৬৭:১৫)

* মৃত জমিনকে বৃষ্টি দিয়ে সফল ফলানোর উপযোগী করেছেন-

(وَاٰیَةٌ لَّھُمُ الْاَرْضُ الْمَیْتَةُﺊ اَحْیَیْنٰھَا وَاَخْرَجْنَا مِنْھَا حَبًّا فَمِنْھُ یَاْکُلُوْنَﭰوَجَعَلْنَا فِیْھَا جَنّٰتٍ مِّنْ نَّخِیْلٍ وَّاَعْنَابٍ وَّفَجَّرْنَا فِیْھَا مِنَ الْعُیُوْنِﭱﺫلِیَاْکُلُوْا مِنْ ثَمَرِھ۪ﺫ وَمَا عَمِلَتْھُ اَیْدِیْھِمْﺚ اَفَلَا یَشْکُرُوْنَ)

“আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত জমিন। আমি তাকে সজীব করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, ফলে তা থেকে তারা খেয়ে থাকে। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে ঝরণাসমূহ।”(সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৩-৩৪)

২য় নিদর্শন: وَاخْتِلَافُ الَّیْلِ وَالنَّھَارِ: রাত ও দিনের আবর্তন এবং লক্ষণীয় দিকসমূহ:

* আল্লাহ তা‘আলা রাতকে করেছেন আরামের জন্য, দিনকে করেছেন কাজ করার জন্য-

(وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا وَّجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا)

“এবং রাত্রিকে করেছি আবরণ। আর আমিই দিবসকে জীবিকা অর্জনের সময় করে দিয়েছি।”(সূরা নাবা ৭৮:১০-১১)

* আল্লাহ তা‘আলার দয়া শুধু রাত বা শুধু দিনকে কিয়ামত পর্যন্ত বহাল রাখেননি-

(قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللّٰهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَي يَوْمِ الْقِيَامَةِ)

“বল, ‘তোমরা ভেবে দেখছ কি, আল্লাহ যদি রাতকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন।”(সূরা কাসাস ২৮:৭১)

(قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ جَعَلَ اللہُ عَلَیْکُمُ النَّھَارَ سَرْمَدًا اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ مَنْ اِلٰھٌ غَیْرُ اللہِ یَاْتِیْکُمْ بِلَیْلٍ تَسْکُنُوْنَ فِیْھِﺚ اَفَلَا تُبْصِرُوْنَ)

“বল, ‘তোমরা ভেবে দেখছ কি, আল্লাহ যদি দিনকে কিয়ামাতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন ইলাহ আছে, যে তোমাদের জন্য রাতের আবির্ভাব ঘটাবে যাতে তোমরা বিশ্রাম করতে পার? তবুও কি তোমরা ভেবে দেখবে না?” (সূরা কাসাস ২৮:৭২)

৩য় নিদর্শন: মানুষের কল্যাণে সমুদ্র নৌকা, জাহাজ ইত্যাদি চলাচলের উপযোগী করা:

যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(اَللہُ الَّذِیْ سَخَّرَ لَکُمُ الْبَحْرَ لِتَجْرِیَ الْفُلْکُ فِیْھِ بِاَمْرِھ۪)

“একমাত্র আল্লাহই তো সমুদ্রকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে তাতে নৌযানসমূহ চলাচল করতে পারে।”(সূরা জাসিয়া ৪৫:১২)

অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

(اَلَمْ تَرَ اَنَّ الْفُلْکَ تَجْرِیْ فِی الْبَحْرِ بِنِعْمَةِ اللہِ لِیُرِیَکُمْ مِّنْ اٰیٰتِھ۪)

“তুমি কি দেখ না যে, নৌযাহানসমূহ আল্লাহর অনুগ্রহে সমুদ্রে চলাচল করে, যেন তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলীর কিছু দেখান?” (সূরা লুকমান ৩১:৩১)

৪র্থ নিদর্শন: আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করা:

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُبَارَكًا فَأَنْبَتْنَا بِهِ جَنَّاتٍ وَحَبَّ الْحَصِيدِ)

“আকাশ হতে আমি কল্যাণকর বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তদ্দ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান ও পরিপক্ক শস্যরাজি।”(সূরা ক্বাফ ৫০:৯)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:

( اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللہَ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَا۬ئِ مَا۬ئًﺑ فَتُصْبِحُ الْاَرْضُ مُخْضَرَّةًﺚ اِنَّ اللہَ لَطِیْفٌ خَبِیْرٌ)

“তুমি কি লক্ষ করো না যে, আল্লাহ বারি বর্ষণ করেন আকাশ হতে যাতে সবুজ শ্যামল হয়ে ওঠে পৃথিবী? নিশ্চয়ই আল্লাহ সম্যক সূক্ষ্মদর্শী, পরিজ্ঞাত।”(সূরা হজ্জ ২২:৬৩)

আল্লাহ তা‘আলা যে বৃষ্টিপাত করেন তা পবিত্র-

(وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً طَهُورًا)

“আমি আকাশ হতে পবিত্র পানি বর্ষণ করি।”(সূরা ফুরকান ২৫:৪৮)

৫ম নিদর্শন:

প্রত্যেক জীব-জন্তুর বিচরণ বিভিন্ন আকার আকৃতি, রং, ছোট-বড় ইত্যাদি সকল জীব-জন্তু সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা অবগত আছেন, তিনি তাদের রিযিক দেন-

( وَمَا مِنْ دَا۬بَّةٍ فِی الْاَرْضِ اِلَّا عَلَی اللہِ رِزْقُھَا وَیَعْلَمُ مُسْتَقَرَّھَا وَمُسْتَوْدَعَھَاﺚ کُلٌّ فِیْ کِتٰبٍ مُّبِیْنٍ )

“ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই। তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সুস্পষ্ট কিতাবে সব কিছুই আছে।”(সূরা হুদ ১১:৬)

জীব-জন্তুরাও আল্লাহ তা‘আলাকে সিজদা করে-

( وَلِلہِ یَسْجُدُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ مِنْ دَا۬بَّةٍ وَّالْمَلٰ۬ئِکَةُ)

“আল্লাহকেই সাজদাহ্ করে যা কিছু আছে আকাশসমূহে, পৃথিবীর সমস্ত জীবজন্তু এবং ফেরেশতাগণও।”(সূরা নাহল ১৬:৪৯)

৬ষ্ঠ নিদর্শন:

বায়ূরাশির গতি পরিবর্তন: বাতাস কখনো রহমতের হয়, আবার কখনো আযাবের হয়। পবিত্র কুরআনে যেসকল স্থানে বাতাস বহু বচন হিসেবে এসেছে তা রহমতের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন-

(وَمِنْ اٰیٰتِھ۪ٓ اَنْ یُّرْسِلَ الرِّیَاحَ مُبَشِّرٰتٍ وَّلِیُذِیْقَکُمْ مِّنْ رَّحْمَتِھ۪)

“আর তার দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে একটি এই যে, তিনি বাতাস পাঠান সুখবর দানকারীরূপে এবং যেন তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহের স্বাদ ভোগ করান।”(সূরা রূম ৩০:৪৬) এরূপ সূরা রূমের ৪৮ নং আয়াতে উল্লেখ আছে।

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:

(وَاللہُ الَّذِیْٓ اَرْسَلَ الرِّیٰحَ فَتُثِیْرُ سَحَابًا فَسُقْنٰھُ اِلٰی بَلَدٍ مَّیِّتٍ)

“আর তিনিই আল্লাহ যিনি বাতাস প্রেরণ করেন, তারপর তা মেঘমালাকে পরিচালিত করে। অতঃপর আমি তা পরিচালিত করি মৃত ভূখণ্ডের দিকে।”(সূরা ফাতির ৩৫:৯)

আর যখন বাতাস শব্দটি একবচন হিসেবে এসেছে তখন আযাবের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(وَفِیْ عَادٍ اِذْ اَرْسَلْنَا عَلَیْھِمُ الرِّیْحَ الْعَقِیْمَ)

“এবং (নিদর্শন রয়েছে) ‘আদ জাতির ঘটনায়, যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম অকল্যাণকর বাতাস।”(সূরা যারিয়াত ৫১:৪১)

( کَمَثَلِ رِیْحٍ فِیْھَا صِرٌّ اَصَابَتْ حَرْثَ قَوْمٍ ظَلَمُوْٓا اَنْفُسَھُمْ )

“উদাহরণ হচ্ছে- ঐ বাতাসের সাথে যাতে রয়েছে অতি ঠাণ্ডা তা আঘাত করল এমন এক কওমের শস্যক্ষেতে যারা নিজেদের ওপর অন্যায় করেছিল।”(সূরা আলি ইমরান ৩:১১৮)

৭ম নিদর্শন:

আকাশ ও পৃথিবীমধ্যস্থ নেয়ামত মেঘমালা এবং বৃষ্টি বর্ষণ-

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللہَ یُزْجِیْ سَحَابًا ثُمَّ یُؤَلِّفُ بَیْنَھ۫ ثُمَّ یَجْعَلُھ۫ رُکَامًا فَتَرَی الْوَدْقَ یَخْرُجُ مِنْ خِلٰلِھ۪)

“তুমি কি দেখ না, আল্লাহ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, তৎপর তাদেরকে একত্র করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তুমি দেখতে পাও, সেটার মধ্য হতে নির্গত হয় বারিধারা।”(সূরা নূর ২৪:৪৩)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

( حثج اِذَآ اَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنٰھُ لِبَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَنْزَلْنَا بِھِ الْمَا۬ئَ )

“যখন তা ঘন মেঘ বহন করে তখন আমি তা নির্জীব ভূখণ্ডের দিকে চালনা করি, পরে তা হতে বৃষ্টি বর্ষণ করি।”(সূরা আ‘রাফ ৭:৫৭)

এতসব নেয়ামত দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে ধন্য করেছেন। এসব কিছু প্রমাণ করে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা সমগ্র জাহানের একক রব বা প্রতিপালক। তিনি সবকিছুর প্রতিপালক হবার কারণে সবকিছুর মা‘বূদও এককভাবে তিনিই। কেননা, যিনি প্রতিপালক হবেন তিনি ব্যতীত আর কেউ মা‘বূদ হতে পারে না। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র মা‘বূদ, তাঁর রুবুবিয়্যাতেও কোন শরীক নেই এবং উলূহিয়্যাতেও কোন শরীক নেই। তাই আমরা সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য সম্পাদন করব অন্য কারো জন্য নয়।

আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. সব নিদর্শন আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়াহর ওপর প্রমাণ বহন করে এবং রুবুবিয়্যাহ উলূহিয়্যাহ এর প্রমাণ বহন করে।

২. নিদর্শনাবলী দ্বারা আল্লাহ তা‘আলাকে চেনা যায়।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
কুরআন পড়ুন, শুনুন, অনুসন্ধান করুন এবং চিন্তা করুন

Quran.com হল একটি বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন ভাষায় কুরআন পড়তে, অনুসন্ধান করতে, শুনতে এবং তার উপর চিন্তাভাবনা করার জন্য ব্যবহার করে। এটি অনুবাদ, তাফসির, তেলাওয়াত, শব্দে শব্দ অনুবাদ এবং গভীর অধ্যয়নের জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে, যা সকলের কাছে কুরআনকে সহজলভ্য করে তোলে।

সাদাকাহ জারিয়াহ হিসেবে, Quran.com মানুষকে কুরআনের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত হতে সাহায্য করার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। Quran.Foundation দ্বারা সমর্থিত, একটি 501(c)(3) অলাভজনক সংস্থা, Quran.com সকলের জন্য একটি বিনামূল্যের এবং মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বেড়ে চলেছে, আলহামদুলিল্লাহ.

নেভিগেট করুন
বাড়ি
কোরআন রেডিও
আবৃত্তিকারী
আমাদের সম্পর্কে
বিকাশকারীরা
পণ্য আপডেট
প্রতিক্রিয়া
সাহায্য
দান করুন
আমাদের প্রকল্পগুলি
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Quran.AI
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Quran.Foundation এর মালিকানাধীন, পরিচালিত, অথবা স্পন্সরকৃত অলাভজনক প্রকল্প।
জনপ্রিয় লিঙ্ক

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

সাইটম্যাপগোপনীয়তাশর্তাবলী
© ২০২৬ Quran.com. সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত