Masuk
Terus bertumbuh Selepas Ramadan!
Pelajari lebih lanjut
Masuk
Masuk
Pilih Bahasa
9:60
۞ انما الصدقات للفقراء والمساكين والعاملين عليها والمولفة قلوبهم وفي الرقاب والغارمين وفي سبيل الله وابن السبيل فريضة من الله والله عليم حكيم ٦٠
۞ إِنَّمَا ٱلصَّدَقَـٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱلْعَـٰمِلِينَ عَلَيْهَا وَٱلْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِى ٱلرِّقَابِ وَٱلْغَـٰرِمِينَ وَفِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةًۭ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ٦٠
۞ اِنَّمَا
الصَّدَقٰتُ
لِلۡفُقَرَآءِ
وَالۡمَسٰكِيۡنِ
وَالۡعٰمِلِيۡنَ
عَلَيۡهَا
وَالۡمُؤَلَّـفَةِ
قُلُوۡبُهُمۡ
وَفِى
الرِّقَابِ
وَالۡغٰرِمِيۡنَ
وَفِىۡ
سَبِيۡلِ
اللّٰهِ
وَابۡنِ
السَّبِيۡلِ​ؕ
فَرِيۡضَةً
مِّنَ
اللّٰهِ​ؕ
وَاللّٰهُ
عَلِيۡمٌ
حَكِيۡمٌ‏ 
٦٠
Sesungguhnya zakat itu hanyalah untuk orang-orang fakir, orang miskin, amil zakat, orang yang dilunakkan hatinya (mualaf), untuk (memerdekakan) hamba sahaya, untuk (membebaskan) orang yang berhutang, untuk jalan Allah dan untuk orang yang sedang dalam perjalanan, sebagai kewajiban dari Allah. Allah Maha Mengetahui, Mahabijaksana.
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Refleksi
Jawaban
Qiraat
Hadits

পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ঐ অজ্ঞ মুনাফিকদের বর্ণনা দিয়েছেন যারা সাদকা বণ্টনের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর আপত্তি উঠিয়েছিল। এখন এই আয়াতে বর্ণনা করছেন যে, যাকাতের মাল বণ্টন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল নয়। বরং যাকাত বন্টন করার ক্ষেত্রগুলো স্বয়ং আল্লাহ বাতলিয়ে দিয়েছেন। সুনানে আবি দাউদে যিয়াদ ইবনে হারিস সুদাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি নবী (সঃ)-এর দরবারে হাযির হয়ে তার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছি, এমন সময় একটি লোক এসে তাঁর কাছে আবেদন করে- “সাদকার (যাকাতের) মাল থেকে আমাকে কিছু দান করুন!” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “সাদকার ব্যাপারে আল্লাহ নবী বা অন্য কারো ইচ্ছার উপর সন্তুষ্ট নন, বরং তিনি নিজেই তা বণ্টনের আটটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং যদি তুমি এই ৮টি ক্ষেত্রের কোন একটির মধ্যে পড় তবে আমি তোমাকে দিতে পারি।এখন যাকাতের মাল এই আট প্রকার লোকের মধ্যেই বণ্টন করা ওয়াজিব, নাকি যে কোন এক প্রকারের লোককে দিলেই চলবে, এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফিঈ (রঃ) ও একদল আলেম বলেন যে, যাকাতের মাল এই আট প্রকারের সমস্ত লোকের উপর বণ্টন করা ওয়াজিব। দ্বিতীয় উক্তি হচ্ছে এই যে, সকল প্রকার লোকের উপর বণ্টন করা ওয়াজিব নয়, বরং যে কোন এক প্রকারের লোককে দিলেই যথেষ্ট হবে যদিও অন্য প্রকারের লোকও বিদ্যমান থাকে। এ উক্তি হচ্ছে ইমাম মালিক (রঃ) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক দল গুরুজনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন উমার (রাঃ), হুযাইফা (রাঃ), ইবনে আব্বাস (রাঃ), আবুল আলিয়া (রঃ) সাঈদ ইবনে জুবাইর (রঃ) এবং মাইমুন ইবনে মাহরান (রঃ)।ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, সাধারণ আহলুল ইলমের উক্তিও এটাই। এ আয়াতে যাকাত খরচের ক্ষেত্র বর্ণনা করা হয়েছে, সমস্ত প্রকারের লোককে দেয়ার কথা বর্ণিত হয়নি। এসব উক্তির দলীল প্রমাণাদি ও তর্ক-বিতর্কের স্থান এ কিতাব নয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। সর্বপ্রথম ফকীরদের বর্ণনা দেয়ার কারণ এই যে, তাদের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশী, যদিও ইমাম আবু হানীফা (রঃ)-এর মতে মিসকীনের অবস্থা ফকীরের চাইতেও কঠিন। উমার (রাঃ) বলেন যে, যার হাতে কোন মাল নেই শুধু তাকেই ফকীর বলা হয় না, বরং যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে, কিছু পানাহারও করছে এবং কিছু আয় উপার্জনও করছে সেও ফকীর। ইবনে আলিয়্যাহ (রঃ) বলেন যে, এই রিওয়ায়াতে (আরবী) শব্দ রয়েছে। আর আমাদের মতে (আরবী) বলা হয় তিজারত বা ব্যবসাকে। কিন্তু জমহুর এর বিপরীত মত পোষণ করেন। বহু গুরুজন বলেন যে, ফকীর হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকে। আর মিসকীন বলা হয় ভিক্ষুককে, যে লোকদের পিছু ধরে এবং ঘরে ঘরে ও অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়ায়। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, ফকীর হচ্ছে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি এবং মিস্কীন হচ্ছে সুস্থ সবল লোক। ইবরাহীম (রঃ) বলেন যে, এখানে ফকীর দ্বারা মুহাজির ফকীরদেরকে বুঝানো হয়েছে। সুফইয়ান সাওরী (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে- পল্লীবাসীরা এর থেকে কিছুই পাবে না। ইকরামা (রঃ) বলেনঃ “দরিদ্র মুসলিমদেরকে মিসকীন বলো না, মিসকীন তো হচ্ছে আহলে কিতাবের লোক।”এখন ঐ হাদীসগুলো বর্ণনা করা হচ্ছে যেগুলো এই আট প্রকারের সম্পর্কে এসেছেঃ(১) (আরবী) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন ঃ “সাদকা ধনী ও সুস্থ সবলের জন্যে হালাল নয়। দু’টি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে সাদকার মাল চাইলো। তিনি তখন তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত সারা দেহ ভালভাবে দেখে বুঝতে পারলেন যে, তারা সুস্থ ও বলবান। লোক। সুতরাং তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা যদি চাও তবে আমি তোমাদেরকে দিতে পারি। তবে জেনে রেখো যে, ধনী, শক্তিশালী ও উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এতে কোন অংশ নেই।”(২) (আরবী) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “এই ঘোরাফেরাকারী ব্যক্তি মিসকীন নয়, যে লোকদের কাছে ঘোরাফেরা করে অতঃপর তাকে সে এক গ্রাস বা দু’গ্রাস (খাদ্য) এবং একটি বা দু’টি খেজুর প্রদান করে।” জনগণ জিজ্ঞেস করলোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! তা হলে মিসকীন কে?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “যার কাছে এমন কিছু নেই যার দ্বারা সে অমুখাপেক্ষী হতে পারে, যার এমন অবস্থা প্রকাশ পায় না যা দেখে মানুষ তার অবস্থা বুঝতে পেরে তাকে কিছু দান করে এবং যে কারো কাছে ভিক্ষা চায় না।”(৩) (আরবী) এরা হচ্ছে তহসীলদার। তারা ঐ সাদকার (যাকাতের) মাল থেকেই মজুরী পাবে। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর আত্মীয়-স্বজন, যাদের উপর সাদকা হারাম, এই পদে আসতে পারেন না। আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবীআ ইবনে হারিস (রাঃ) এবং ফযল ইবনে আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এসে আবেদন করেনঃ “আমাদেরকে সাদকা আদায়কারী নিযুক্ত করুন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাদেরকে বলেনঃ “মুহাম্মাদ (সঃ) ও তার বংশধরদের জন্যে সাদকা হারাম। এটা তো লোকদের ময়লা-আবর্জনা।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)(৪) (আরবী) এর কয়েকটি প্রকার রয়েছে। কাউকে এই কারণে দেয়া হয় যে, এর ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাফওয়ান ইবনে উমাইয়াকে হুনায়েনের যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমতের মাল থেকে প্রদান করেছিলেন। অথচ ঐ সময় সে কুফরী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে বের হয়েছিল। সে নিজেই বর্ণনা করেছেঃ “তাঁর দান ও সুবিচার আমার অন্তরে সবচেয়ে বেশী তাঁর প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করেছিল। অথচ ইতিপূর্বে তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রু আমিই ছিলাম। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম মুসলিম (রঃ) এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) আবার কাউকে এ জন্যে দেয়া হয় যে, এর ফলে তার ইসলাম দঢ় হয়ে যাবে। আর ইসলামের উপর তার মন বসে যাবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) হুনায়েনের যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমতের মাল থেকে মক্কার আযাদকৃত লোকদের সর্দারদেরকে শত শত উট দান করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ “আমি একজনকে দিয়ে থাকি এবং তার চেয়ে আমার নিকট প্রিয়জনকে দিই না এই ভয়ে যে (তাকে না দিলে সে ইসলাম থেকে ফিরে যাবে, ফলে) তাকে উল্টো মুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।”সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একবার আলী (রাঃ) ইয়ামন থেকে মাটি মিশ্রিত কাঁচা সোনা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খিদমতে প্রেরণ করেন। তিনি তা শুধুমাত্র চারজন লোকের মধ্যে বণ্টন করে দেন। তারা হলেনঃ (১) আকরা ইবনে হাবিস (রাঃ), (২) উয়াইনা ইবনে বদর (রাঃ), (৩) আলকামা ইবনে আলাসা (রাঃ) এবং (৪) যায়েদ আল খায়ের (রাঃ)। তিনি বলেনঃ “তাদের মন জয় করার উদ্দেশ্যে আমি এটা তাদেরকে প্রদান করেছি।” কাউকে এ জন্যেও দেয়া হয় যে, সে পার্শ্ববর্তী লোকদের কাছে তা পৌছিয়ে দিবে অথবা আশেপাশের শত্রুদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে এবং তাদেরকে মুসলিমদের উপর আক্রমণ করার সুযোগ দিবে না। এসব বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেয়ার স্থান হচ্ছে আহকাম ও ফুরূ’র কিতাবগুলো, এই তাফসীর নয়। আল্লাহ তাআলাই এসব বিষয়ে সঠিক ও সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী।উমার (রাঃ), আমির শাবী (রঃ) এবং এক দল আলেমের উক্তি এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ইতেকালের পর সাদকা (যাকাত) খরচের এ ক্ষেত্রগুলো আর বাকী নেই। কেননা, আল্লাহ তা'আলা ইসলামের মর্যাদা দান করেছেন। মুসলিমরা আজ দেশসমূহের মালিক হয়ে বসেছে এবং আল্লাহর বহু বান্দা তাদের অধীনস্থ রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য গুরুজনদের উক্তি এই যে, মন জয়ের উদ্দেশ্যে এখনও যাকাতের মাল খরচ করা জায়েয। মক্কা বিজয় এবং হাওয়াযেন বিজয়ের পরেও রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ লোকদেরকে সাদকার মাল প্রদান করেছিলেন। দ্বিতীয়তঃ এখনও এরূপ প্রয়োজন দেখা দিয়ে থাকে। (৫) (আরবী) গোলাম আযাদ করার ব্যাপারে বহু বুযুর্গ ব্যক্তি বলেন যে, এর দ্বারা ঐ গোলামদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা টাকার একটা অংক নির্ধারণ করে তাদের মনিবদের সাথে আযাদী লাভের শর্ত করে নিয়েছে। যাকাতের মাল থেকে এই গোলামদেরকে এই পরিমাণ টাকা দেয়া যাবে, যাতে তারা তা আদায় করে আযাদী লাভ করতে পারে। অন্যান্য বুযুর্গগণ বলেন যে, যে গোলাম মনিবের সাথে এরূপ গোলামকেও যাকাতের মাল দিয়ে খরিদ করে নিয়ে আযাদ করে দিতে কোনই অসুবিধা নেই। মোটকথা, মুকাতাব গোলাম’ (মুকাতাব ঐ গোলামকে বলা হয় যার মনিব তাকে তার ক্রয় মূল্য উপার্জন করে দেয়ার শর্তে মুক্তির কথা দিয়েছে) বা সাধারণ গোলামকে আযাদকরণও যাকাত খরচের একটি ক্ষেত্র। হাদীসেও এর অনেক ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। এমন কি বলা হয়েছে যে, আযাদকৃত গোলামের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে আযাদকারীর প্রতিটি অঙ্গকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন, এমন কি লজ্জাস্থানের বিনিময়ে লজ্জা স্থানকেও। কেননা, প্রত্যেক পুণ্যের বিনিময় ঐরূপই হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তোমরা যে আমল করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিদান দেয়া হবে।” আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “তিন প্রকার লোকের সাহায্য করা আল্লাহ তা'আলার দায়িত্বে রয়েছে। প্রথম ঐ গাযী, যে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। দ্বিতীয় ঐ মুকাতাব গোলাম, যে তার চুক্তির টাকা আদায়ের ইচ্ছা করে। তৃতীয় ঐ বর বা বিয়ের পাত্র, যার বিয়ে করার উদ্দেশ্য হচ্ছে দুষ্কার্য থেকে রক্ষা পাওয়া।” বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক এসে বললোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাকে এমন আমলের কথা বাতলিয়ে দিন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) এবং ইমাম আবু দাউদ (রঃ) ছাড়া অন্যান্য আসহাবে সুনান বর্ণনা করেছেন) রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “তুমি নামা’ আযাদ কর ও গর্দান মুক্ত কর।” সে বললোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! দুটো তো একই।” তিনি বললেনঃ “না, নাসমা’ আযাদ করার অর্থ এই যে, তুমি একাই কোন গোলাম আযাদ করবে। আর গর্দান মুক্ত করার অর্থ এই যে, তুমি ওর মূল্যের ব্যাপারে সাহায্য করবে।” (এ কথার ভাবার্থ এই যে, একজন লোক একাকী একটা গোলাম আযাদ করতে পারছে না, তখন কয়েকজন মিলে এ গোলামের মূল্য সংগ্রহ করে ওকে ক্রয় করে আযাদ করে দিলো। এটাই হলো তার মূল্যের ব্যাপারে সাহায্য করা)(৬) (আরবী) এটাও কয়েক প্রকার। যেমন একটি লোক কারো বোঝা নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিলো বা কারো কর্জের সে যামিন হয়ে গেল। অতঃপর সে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হয়ে গেল অথবা নিজেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লো, কিংবা কেউ কোন নাফরমানীমূলক কাজ করার শাস্তিস্বরূপ তার উপর ঋণের বোঝা চেপে বসলো । তারপর সে তাওবাহ্ করলো। এমতাবস্থায় তাকে যাকাতের মাল দেয়া যাবে, যাতে সে এর দ্বারা তার এ ঋণ আদায় করতে পারে। এই মাসআলাটির মূল হচ্ছে কুবাইসা ইবনে মাখরিক আল্ হিলালি (রাঃ)-এর নিম্নের রিওয়ায়াতটিঃতিনি বলেন, আমি অন্যের (ঋণের) বোঝা নিজের ঘাড়ে নিয়ে ফেলেছিলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দরবারে হাযির হয়ে এ ব্যাপারে আবেদন নিবেদন করি। তিনি বলেনঃ “অপেক্ষা কর, আমার কাছে সাদকার (যাকাতের) মাল আসলে তা থেকে তোমাকে প্রদান করবো।” এরপর তিনি বলেনঃ “হে কুবাইসা! জেনে রেখো যে, তিন প্রকার লোকের জন্যেই শুধু ভিক্ষা হালাল। এক তো হচ্ছে যামিন ব্যক্তি যার জামানতের অর্থ পুরো না হওয়া পর্যন্ত তার জন্যে ভিক্ষা জায়েয। দ্বিতীয় হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যার মাল কোন দৈব দুর্বিপাকে নষ্ট হয়ে গেছে, তার জন্যেও ভিক্ষা জায়েয যে পর্যন্ত না তার স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। তৃতীয় হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যার ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটে এবং তার কওমের তিনজন বিবেকবান লোক সাক্ষ্য দেয় যে, নিঃসন্দেহে অমুক ব্যক্তির ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটে। তার জন্যেও ভিক্ষা করা জায়েয যে পর্যন্ত না সে কোন আশ্রয় লাভ করে এবং তার জীবিকার ব্যবস্থা হয়ে যায়। এই তিন প্রকারের লোক ছাড়া অন্যান্যদের জন্যে ভিক্ষা হারাম। যদি তারা ভিক্ষা করে কিছু খায় তবে অবৈধ উপায়ে হারাম খাবে।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ)-এর যুগে একটি লোক একটি বাগান খরিদ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাগানের ফল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সে ভীষণভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। নবী (সঃ) (জনগণকে) বললেনঃ “তোমরা তার উপর সাদকা কর।” জনগণ সাদকা করলো, কিন্তু তাতেও তার ঋণ পরিশোধ হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঋণ দাতাদেরকে বললেনঃ “তোমরা যা পেলে তাই গ্রহণ কর, এ ছাড়া তোমরা আর কিছু পাবে না।” (এ হাদীসটিও ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন) আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন একজন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে ডেকে তাঁর সামনে হাযির করবেন, অতঃপর বলবেনঃ “হে আদম সন্তান! তুমি কি কাজে কর্জ নিয়েছিলে এবং কিভাবে জনগণের হক নষ্ট করেছিলে?” সে উত্তরে বলবেঃ “হে আমার প্রভু! আপনি তো জানেন যে, আমি তা গ্রহণ করে নিজে খাইনি, পানও করিনি এবং নষ্টও করিনি। বরং আমার হাত থেকে হয় তো চুরি হয়ে গেছে বা পুড়ে গেছে অথবা কোন দৈব দুর্বিপাকে নষ্ট গেছে।” তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আজ তোমার কর্জ আদায় করার সবচেয়ে বড় হকদার আমি।” অতঃপর আল্লাহ তাআলা কোন জিনিস চেয়ে পাঠাবেন। ওটা তার নেকির পাল্লায় রাখা হবে। এর ফলে তার নেকির পাল্লা পাপের পাল্লার চেয়ে ভারী হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা'আলা স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন)(৭) (আরবী) ঐ মুজাহিদ ও গাযীরা এর অন্তর্ভুক্ত যাদের দফতরে কোন হক থাকে না। হজ্বও। (আরবী)-এর অন্তর্ভুক্ত।(৮) (আরবী) বা মুসাফির, যার সাথে কোন অর্থ নেই, তাকেও যাকাতের মাল থেকে এই পরিমাণ দেয়া যাবে যাতে সে নিজ শহরে পৌছাতে পারে। যদিও সে নিজের জায়গায় একজন ধনী লোকও হয়। ঐ ব্যক্তির জন্যেও এই হুকুম যে নিজের শহর থেকে অন্য জায়গায় সফর করতে ইচ্ছুক, কিন্তু তার কাছে মালধন নেই বলে সফরে বের হতে পারছে না। তাকেও সফরের খরচের জন্যে যাকাতের মাল দেয়া জায়েয, যা তার যাতায়াতের জন্যে যথেষ্ট হবে।এ আয়াতটি ছাড়াও নিম্নের হাদীসটি এর দলীলঃ আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ “পাঁচ প্রকারের মালদার ব্যতীত কোন মালদারের জন্যে সাদকা হালাল নয়। (১) ঐ ধনী যাকে যাকাত আদায় করার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। (২) ঐ মালদার, যে যাকাতের মালের কোন জিনিস নিজের মাল দিয়ে কিনে নিয়েছে। (৩) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। (৪) আল্লাহর পথের গাযী । (৫) ঐ সম্পদশালী লোক, যাকে কোন মিসকীন তার যাকাত হতে প্রাপ্ত কোন মাল উপঢৌকন হিসেবে দিয়েছে। (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) ও ইমাম ইবনে মাজাহ্ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যাকাত ধনীর জন্যে হালাল নয়, কিন্তু যে (ধনাঢ্য ব্যক্তি আল্লাহর পথে রয়েছে বা মুসাফির অবস্থায় আছে কিংবা তার কোন মিসকীন প্রতিবেশী হাদিয়া স্বরূপ তার কাছে পাঠিয়েছে বা বাড়ীতে যিয়াফত দিয়ে ডেকে নিয়েছে (তাদের জন্যে হালাল)।”যাকাতের মাল খরচের এই আটটি ক্ষেত্র বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করছেন- “এ হুকুম আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত। আল্লাহ তা'আলা যাহের ও বাতেনের পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। তিনি বান্দাদের উপযযাগিতা সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন। তিনি তাঁর কথায়, কাজে, শরীয়তে ও হুকুমে অতি প্রজ্ঞাময়। তিনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউই নেই এবং তিনি ছাড়া কারো কোন পালনকর্তা নেই।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Baca, Dengarkan, Cari, dan Renungkan Al Quran

Quran.com adalah platform tepercaya yang digunakan jutaan orang di seluruh dunia untuk membaca, mencari, mendengarkan, dan merefleksikan Al-Qur'an dalam berbagai bahasa. Platform ini menyediakan terjemahan, tafsir, tilawah, terjemahan kata demi kata, dan berbagai alat untuk pembelajaran yang lebih mendalam, sehingga Al-Qur'an dapat diakses oleh semua orang.

Sebagai sebuah Sadaqah Jariyah, Quran.com berdedikasi untuk membantu orang-orang terhubung secara mendalam dengan Al-Qur'an. Didukung oleh Quran.Foundation , sebuah organisasi nirlaba 501(c)(3), Quran.com terus berkembang sebagai referensi yang sangat bernilai dan gratis untuk semua orang, Alhamdulillah.

Navigasi
Halaman Utama
Radio Qur'an
Qari
Tentang Kami
Pengembang
Pengkinian Produk
Beri Masukan
Bantuan
Menyumbang
Proyek Kami
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Quran.AI
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Proyek nirlaba yang dimiliki, dikelola, atau disponsori oleh Quran.Foundation
Link populer

Ayat Kursi

Surah Yasin

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahfi

Surah Al Muzzammil

Peta situsKerahasiaanSyarat dan Ketentuan
© 2026 Quran.com. Hak Cipta Terlindungi