Log masuk
Menyumbang kepada misi kami
Derma
Menyumbang kepada misi kami
Derma
Log masuk
Log masuk
Pilih Bahasa
56:21
ولحم طير مما يشتهون ٢١
وَلَحْمِ طَيْرٍۢ مِّمَّا يَشْتَهُونَ ٢١
وَلَحۡمِ
طَيۡرٖ
مِّمَّا
يَشۡتَهُونَ
٢١
Serta daging burung dari jenis-jenis yang mereka ingini.
Tafsir
Lapisan
Pelajaran
Renungan
Jawapan
Qiraat
Hadis
Anda sedang membaca tafsir untuk kumpulan ayat dari 56:13 hingga 56:26

১৩-২৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা ঐ বিশিষ্ট নৈকট্যলাভকারীদের সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে বলেন যে, তারা পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে হবে বহু সংখ্যক এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। এই পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের তাফসীরে কয়েকটি উক্তি রয়েছে। যেমন একটি উক্তি হলো এই যে, পূর্ববর্তী দ্বারা পূর্ববর্তী উম্মতসমূহ এবং পরবর্তী দ্বারা এই উম্মত অর্থাৎ উম্মতে মুহাম্মাদ (সঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এই উক্তিটিকেই পছন্দ করেছেন এবং এই উক্তির সবলতার পক্ষে ঐ হাদীসটি পেশ করেছেন যাতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমরা হলাম পরবর্তী, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরাই হবো পূর্ববর্তী।" এই উক্তির সহায়ক মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে বর্ণিত হাদীসটিও হতে পারে। তা হলোঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, যখন কুরআন কারীমের আয়াত (আরবী) অবতীর্ণ হয় তখন এটা নবী (সঃ)-এর সাহাবীদের উপর খুবই কঠিন ঠেকে। ঐ সময় (আরবী)-এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। অর্থাৎ “বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে এবং বহুসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে।” তখন নবী (সঃ) বলেনঃ “আমি আশা করি যে, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের এক চতুর্থাংশ, বরং এক তৃতীয়াংশ এমনকি অর্ধাংশ। তোমরাই হবে জান্নাতবাসীদের অর্ধাংশ। আর বাকী অর্ধাংশ সমস্ত উম্মতের মধ্যে বন্টিত হবে যাদের মধ্যে তোমরাও থাকবে। এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদেও রয়েছে। হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন (আরবী) অবতীর্ণ হয় এবং তাতে বর্ণিত হয় যে, বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে, তখন হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে হবে বহু সংখ্যক এবং আমাদের মধ্য হতে হবে কম সংখ্যক?" এটা অবতীর্ণ হওয়ার এক বছর পর (আরবী) অবতীর্ণ হয়। অর্থাৎ “পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে বহুসংখ্যক হবে এবং পরবর্তীদের মধ্য হতেও বহুসংখ্যক হবে।” তখন রাসূলুল্লাহ হযরত উমার (রাঃ)-কে ডেকে বলেনঃ “হে উমার (রাঃ) শোন, হযরত আদম (আঃ) হতে আমি পর্যন্ত (অর্থাৎ হযরত আদম আঃ-এর যুগ হতে নিয়ে আমার যুগ পর্যন্ত) হলো (আরবী) বহুসংখ্যক। আর শুধু আমার উম্মতই হলো বা বহুসংখ্যক। আমরা আমাদের এই বহুসংখ্যককে পূর্ণ করার জন্যে ঐ হাবশীদেরকেও নিবো যারা উটের রাখাল, কিন্তু তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই।”এ হাদীসটি হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই রিওয়াইয়াতের সনদের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। হ্যাঁ, তবে বহু। সনদসহ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর এই উক্তিটিও প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেনঃ “আমি আশা করি যে, তোমরা আহলে জান্নাতের এক চতুর্থাংশ হবে ...... শেষ পর্যন্ত।” সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যে, এটা আমাদের জন্যে বড় সুসংবাদই বটে।ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) যে উক্তিটিকে পছন্দ করেছেন তাতে চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। বরং প্রকৃতপক্ষে উক্তিটি খুবই দুর্বল। কেননা, কুরআনের ভাষা দ্বারা এই উম্মতের অন্যান্য সমস্ত উম্মতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত। তাহলে আল্লাহ তা'আলার নিকট নৈকট্য প্রাপ্তদের সংখ্যা পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্য হতে বেশী এবং এই উম্মতের মধ্য হতে কম কি করে হতে পারে? হ্যাঁ, তবে এ ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে, সমস্ত উম্মতের নৈকট্যপ্রাপ্তগণ মিলে শুধু এই উম্মতের নৈকট্যপ্রাপ্তদের সংখ্যা হতে অধিক হবেন। কিন্তু বাহ্যতঃ তো এটা জানা যাচ্ছে যে, সমস্ত উম্মতের নৈকট্য প্রাপ্তদের সংখ্যা হতে শুধু এই উম্মতের নৈকট্য প্রাপ্তদের সংখ্যা অধিক হবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এই বাক্যের তাফসীরে দ্বিতীয় উক্তি এই যে, এই উম্মতের প্রথম যুগের লোকদের মধ্য হতে নৈকট্যপ্রাপ্তদের সংখ্যা অনেক বেশী হবে এবং পরবর্তী যুগের লোকদের মধ্য হতে কম হবে। এ উক্তিটি রীতি সম্মত। হযরত হাসান (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করে বলেনঃ “নৈকট্য প্রাপ্তগণ তো গত হয়ে গেছেন। কিন্তু হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আসহাবুল ইয়ামীনের অন্তর্ভুক্ত করুন।” অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, তিনি বলেনঃ “এই উম্মতের মধ্যে যাঁরা গত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে নৈকট্যপ্রাপ্তগণ অনেক ছিলেন।” ইমাম ইবনে সীরীন (রঃ) একথাই বলেন। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে এই প্রথম যুগীয় লোকদের অনেকেই নৈকট্য প্রাপ্ত হয়েছেন এবং পরবর্তী যুগের লোকদের খুব কম সংখ্যকই এই মর্যাদা লাভ করেছেন। এ নিয়ম ধারাবাহিকভাবেই চলে আসছে। তাহলে ভাবার্থ এরূপ হওয়াও সম্ভব যে, প্রত্যেক উম্মতেরই প্রথম যুগের লোকদের মধ্যে নৈকট্য প্রাপ্তদের সংখ্যা অধিক এবং পরবর্তী লোকদের মধ্যে এ সংখ্যা কম। কারণ সহীহ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হাদীসসমূহ দ্বারা এটা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সর্বযুগের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, তারপর এর পরবর্তী যুগ, এরপর এর পরবর্তী যুগ, (শেষ পর্যন্ত)।" হ্যাঁ, তবে একটি হাদীসে এও এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত বৃষ্টির মত। সুতরাং প্রথম যুগের বৃষ্টি উত্তম কি শেষ যুগের বৃষ্টি উত্তম তা আমার জানা নেই।” হাদীসটির ইসনাদ বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে এটাকে এই বিষয়ের উপর স্থাপন করা হবে যে, দ্বীনের জন্যে যেমন প্রথম যুগীয় লোকদের প্রয়োজন ছিল যারা পরবর্তী লোকদের জন্যে এর তাবলীগ করেছেন, অনুরূপভাবে শেষ যুগে এটাকে কায়েম রাখার জন্যে শেষ যুগীয় লোকদের প্রয়োজন রয়েছে। যাঁরা লোকদেরকে সুন্নাতে রাসূল (সঃ)-এর উপর একত্রিত করবেন, এর রিওয়াইয়াত করবেন এবং জনগণের উপর এটা প্রকাশ করবেন। কিন্তু পূর্বযুগীয় লোকদেরই ফযীলত বেশী হবে। এটা ঠিক এরূপ যে, জমিতে প্রাথমিক বৃষ্টিরও প্রয়োজন হয় এবং শেষের বৃষ্টিরও প্রয়োজন হয়। কিন্তু জমি প্রাথমিক বৃষ্টি দ্বারাই বেশী উপকার লাভ করে থাকে। কেননা, প্রথম প্রথম যদি বৃষ্টি না হয় তবে শস্যের বীজ অংকুরিতই হবে না এবং জড় বা মূলও বসবে না। এ জন্যেই তো রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার উম্মতের একটি দল সদা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে বিজয়ী থাকবে। তাদের শত্রুরা তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। তাদের বিরোধীরা তাদেরকে অপদস্থ ও অপমানিত করতে পারবে। শেষ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে এবং তারা ঐরূপই থাকবে।” মোটকথা, এই উম্মত বাকী সমস্ত উম্মত হতে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। আর এই উম্মতের মধ্যে নৈকট্যপ্রাপ্তদের সংখ্যা অন্যান্য উন্মতদের তুলনায় বহুগুণে বেশী হবে। তারা হবে বেশী মর্যাদা সম্পন্ন। কেননা, দ্বীন পরিপূর্ণ হওয়া এবং নবী (সঃ) সর্বাপেক্ষা মর্যাদা সম্পন্ন হওয়ার দিক দিয়ে এরাই সর্বোত্তম। ধারাবাহিকতার সাথে এ হাদীসটি প্রামাণ্য পৌছে গেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “এই উম্মতের মধ্য হতে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যাবে এবং প্রতি সত্তর হাজারের সাথে আরো সত্তর হাজার করে লোক থাকবে।হযরত আবূ মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! কিয়ামতের দিন একটি বৃহৎ দলকে দাঁড় করানো হবে। তারা সংখ্যায় এতো অধিক হবে যে, অন্ধকার রাত্রির মত তারা যমীনের সমস্ত প্রান্তকে ঘিরে ফেলবে। ফেরেশতারা বলবেনঃ “সমস্ত নবী (আঃ)-এর সঙ্গে যত লোক এসেছে, হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর সাথে তাদের সকলের সমষ্টির চেয়ে বহুগুণে বেশী এসেছে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)‘বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে এবং বহু সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে।” এই আয়াতের তাফসীরের স্থলে এই হাদীসটিকে আনয়ন করা যুক্তিযুক্ত হবে যে হাদীসটিকে হাফিয আবু বকর বায়হাকী (রঃ) তাঁর ‘দালাইলুন নবুওয়াহ' নামক গ্রন্থে আনয়ন করেছেন। হাদীসটি হলোঃ হযরত আবূ জামাল জুহনী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন ফজরের নামায পড়তেন তখন তিনি পা দুটি মোড়ানো অবস্থাতেই সত্তর বার পাঠ করতেনঃ (আরবী)অর্থাৎ “আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবূলকারী।” তারপর বলতেনঃ “সত্তরের বদলে সাতশ’। একদিনে যার পাপ সাত শতেরও বেশী হয় তার জন্যে কল্যাণ নেই।” একথা তিনি দু'বার বলতেন। তারপর তিনি জনগণের দিকে মুখ করে বসতেন। স্বপ্ন তার নিকট প্রিয় ছিল বলে তিনি জিজ্ঞেস করতেনঃ “তোমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছ কি?” আবূ জামাল (রাঃ) বলেন, একদা অভ্যাসমত রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিজ্ঞেস করলে আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! হ্যাঁ, আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। তিনি বললেনঃ “আল্লাহ কল্যাণের সাথে সাক্ষাৎ দান করুন, অকল্যাণ হতে বাঁচিয়ে রাখুন, আমাদের জন্যে মঙ্গলজনক করুন, শত্রুদের জন্যে করুন ক্ষতিকর, ঐ আল্লাহ সর্বপ্রকারের প্রশংসার অধিকারী যিনি সারা বিশ্বের প্রতিপালক। তুমি এখন তোমার স্বপ্নের ঘটনা বর্ণনা কর।” আমি তখন বলতে শুরু করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি দেখি যে, একটি রাস্তা রয়েছে যা প্রশস্ত, সহজ, নরম ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অসংখ্য লোক ঐ পথ ধরে চলছে। তারা চলতে চলতে একটি সবুজ-শ্যামল বাগান পেলো যার মত শস্য-শ্যামল ও চমৎকার বাগান আমি কখনো চোখে দেখিনি। ভিতর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে। নানা প্রকারের গাছ ফুলে ফলে ভরপুর রয়েছে। এখন আমি দেখি যে, প্রথম যে দলটি আসলো এবং ঐ বাগানের নিকট পৌঁছলো, তখন তারা তাদের সওয়ারীর গতি বেশ দ্রুত করলো এবং ডানে বামে না গিয়ে দ্রুত গতিতে ঐ স্থান অতিক্রম করলো। তারপর দ্বিতীয় দল আসলো যাদের সংখ্যা বেশী ছিল, যখন তারা এখানে পৌছলো তখন কতকগুলো লোক তাদের বাহনের পশুগুলোকে সেখানে চরাতে শুরু করলো, আর কতকগুলো লোক কিছু গ্রহণ করলো, অতঃপর সেখান হতে প্রস্থান করলো। তারপর আরো বহু লোকের একটি দল আসলো। যখন তারা এই সবুজ-শ্যামল বাগানের নিকট আসলো তখন তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল এবং বলতে লাগলোঃ “এটা সবচেয়ে উত্তম জায়গা।” আমি যেন তাদেরকে এখনো দেখতে পাচ্ছি যে, তারা ডানে বামে ঝুঁকে পড়েছে। আমি এসব দেখলাম। কিন্তু আমি তো চলতেই থাকলাম। যখন বহু দূরে চলে গেলাম তখন দেখলাম যে, সাতটি সিঁড়ি বিশিষ্ট একটি মিম্বর বিছানো রয়েছে এবং আপনি সর্বোচ্চ সোপানে উপবেশন করেছেন। আর আপনার ডানদিকে এক ব্যক্তি রয়েছেন। তার চেহারা গোধূম বর্ণের, অঙ্গুলিগুলো মোটামোটা এবং দেহ লম্বা। যখন তিনি কথা বলছেন তখন সবাই নীরবে শুনছেন এবং জনগণ উঁচু হয়ে হয়ে মনোযোগের সাথে তাঁর কথায় কান লাগিয়ে দিয়েছেন। আপনার বাম দিকে একটি লোক রয়েছেন, যাঁর দেহের গঠন মধ্যম, শরীর মোটা এবং চেহারায় বহু তিল রয়েছে। তাঁর চুল যেন পানিতে সিক্ত। যখন তিনি কথা বলছেন তখন তাঁর সম্মানার্থে সবাই ঝুঁকে পড়ছেন। আর সামনে একজন লোক রয়েছেন, তিনি স্বভাব-চরিত্রে এবং চেহারা ও আকৃতিতে আপনার সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যযুক্ত। আপনারা সবাই তার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতি উৎসুক নেত্রে চেয়ে আছেন। তাঁর সামনে একটি ক্ষীণ, পাতলা ও বৃদ্ধা উষ্ট্রী রয়েছে। আমি দেখলাম যে, আপনি যেন ওকে উঠাচ্ছেন। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। অল্পক্ষণের মধ্যেই তাঁর এ অবস্থা দূরীভূত হলো। অতঃপর তিনি বলতে লাগলেনঃ “সরল, সোজা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তা হলো ঐ দ্বীন যা নিয়ে আমি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে এসেছি এবং যে হিদায়াতের উপর তোমরা রয়েছো। তুমি যে সবুজ শ্যামল বাগানটি দেখেছো ওটা হলো দুনিয়া এবং ওর মন মাতানো সাজ-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র। আমার সাহাবীবর্গ তো ওটা অতিক্রম করে চলে যাবে। না আমরা তাতে লিপ্ত হবো, না ওটা। আমাদেরকে জড়িয়ে ধরবে। না ওর সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক থাকবে, না আমরা ওর প্রতি আকৃষ্ট হবো। অতঃপর আমাদের পর দ্বিতীয় দল আসবে যারা সংখ্যায় আমাদের চেয়ে বেশী হবে। তাদের মধ্যে কতক লোকে তো দুনিয়ার সাথে জড়িয়ে পড়বে। আর কেউ কেউ তা হতে প্রয়োজন মত গ্রহণ করবে। অতঃপর তারা চলে যাবে এবং পরিত্রাণ পেয়ে যাবে। তারপর তাদের পরে একটি বিরাট দল আসবে যারা এই দুনিয়ায় সম্পূর্ণরূপে নিমগ্ন হয়ে পড়বে। তারা ডানে বামে ঢুকে পড়বে। সুতরাং (আরবী) (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্যে এবং নিশ্চয়ই আমরা তারই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী)। এখন থাকলো তোমার কথা। তাহলে জেনে রেখো যে, তুমি তোমার সোজা সরল পথে চলতে থাকবে, শেষ পর্যন্ত তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে।সাতটি সিঁড়ি বিশিষ্ট মিম্বরের সর্বোচ্চ সোপানে যে তুমি আমাকে দেখেছো তার ব্যাখ্যা এই যে, দুনিয়ার আয়ু হচ্ছে সাত হাজার বছর। আমি শেষ বা সপ্তম হাজারে রয়েছি। আমার ডান দিকে গোধূম বর্ণের মোটা অঙ্গুলি বিশিষ্ট যে। লোকটিকে তুমি দেখেছো তিনি হলেন হযরত মূসা (আঃ)। যখন তিনি কথা বলেন তখন লোকেরা উচু হয়ে যায়। কেননা, আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং তার সাথে কথা বলে তাঁকে মর্যাদামণ্ডিত করেছেন। আর যে লোকটিকে তুমি আমার বাম দিকে দেখেছো, যিনি মোটা দেহ বিশিষ্ট এবং যার দেহের গঠন মধ্যম ধরনের আর যার চেহারায় বহু তিল রয়েছে এবং যার চুল পানিতে সিক্ত মনে হচ্ছে, তিনি হলেন হযরত ঈসা (আঃ)। যেহেতু স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তাঁর সম্মান করেছেন। সেই হেতু আমরাও সবাই তাকে সম্মান করি। যে বৃদ্ধ লোকটিকে তুমি আমার সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যযুক্ত দেখেছো তিনি হলেন আমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ)। আমরা সবাই তাঁকে চাই, তার অনুসরণ করি এবং তাঁর আনুগত্য করে থাকি। আর যে বৃদ্ধা উষ্ট্রীটিকে তুমি দেখেছো যে, আমি ওকে দাঁড় করাচ্ছি ওর দ্বারা কিয়ামত উদ্দেশ্য যা আমার উম্মতের উপর সংঘটিত হবে। না আমার পরে কোন নবী আছে এবং না আমার উম্মতের পরে কোন উম্মত আছে।” এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছে কি না এ প্রশ্ন করা ছেড়ে দেন। হ্যাঁ, তবে যখন কেউ নিজেই কোন স্বপ্নের কথা বলতো তখন তিনি ঐ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে দিতেন।” মহান আল্লাহ বলেনঃ নৈকট্যপ্রাপ্তদের বিশ্রামের পালঙ্গটি সোনার তার দ্বারা বুননকৃত হবে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, এটা (আরবী) ওযনে (আরবী)-এর অর্থে হবে। যেমন উষ্ট্রীর পেটের নীচে যেটা থাকে ওটাকে (আরবী) বলা হয়। তারা ঐ আসনে হেলান দিয়ে বসবে, পরস্পর মুখখামুখি হয়ে। কেউ কারো দিকে পিঠ করে বসবে না।তাদের সেবায় ঘোরাফিরা করবে চির কিশোরেরা। অর্থাৎ ঐ সেবকরা বয়সে একই অবস্থায় থাকবে। তারা বড়ও হবে না, বুড়োও হবে না এবং তাদের বয়সে কোন পরিবর্তনও হবে না, বরং তারা সদা কিশোরেই থাকবে।(আরবী) বলা হয় ঐ কুঁজাকে যাতে নালী বা চুঙ্গি এবং ধরবার জিনিস থাকে না। (আরবী) আর বলা হয় ঐ পানপাত্রকে যাতে চুঙ্গি এবং ধরবার জিনিস আছে। এগুলো সুরার প্রবহমান প্রস্রবণ হতে পূর্ণ করা থাকবে, যে সুরা কখনো শেষ হবার নয়। কেননা, ওর প্রস্রবণ সদা জারী থাকবে। এই সদা-কিশোরেরা সুরাপূর্ণ এই পানপাত্রগুলো তাদের নরম হাতে নিয়ে ঐ জান্নাতীদের সেবায় এদিক ওদিক ঘোরাফিরা করতে থাকবে। সেই সুরা পানে তাদের শিরঃপীড়াও হবে না এবং তারা জ্ঞানহারাও হবে না। সুতরাং পূর্ণমাত্রায় তারা ঐ সুরার স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে। মদের মধ্যে চারটি বিশেষণ রয়েছে। (এক) নেশা, (দুই) মাথাব্যথা, (তিন) বমি এবং (চার) প্রস্রাব। মহান প্রতিপালক আল্লাহ জান্নাতের সুরা বা মদের বর্ণনা দিয়ে ওকে এই চারটি দোষ হতে মুক্ত বলে ব্যক্ত করলেন। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ঐ চির কিশোরেরা তাদের কাছে ঘোরাফিরা করবে তাদের পছন্দমত নানা প্রকারের ফলমূল নিয়ে এবং তাদের ঈপ্সিত পাখীর গোশত নিয়ে। যে ফল খাওয়ার তাদের ইচ্ছা হবে এবং যে গোশত খেতে তাদের মন চাইবে, সাথে সাথে তারা তা পাবে। এসব রকমারী খাবার নিয়ে তাদের এই চির কিশোরে সেবকরা সদা তাদের চারদিকে ঘোরাফিরা করবে। সুতরাং তাদের যখনই যা খেতে ইচ্ছা করবে তখনই তা তাদের নিকট থেকে নিয়ে নিবে। এই আয়াতে এই দলীল রয়েছে যে, মানুষ ফল বেছে বেছে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী খেতে পারে।হযরত ইকরাশ ইবনে যুআয়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমার কওম মুররা আমাকে তাদের সাদকার মাল নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট প্রেরণ করে। আমি ঐ মাল নিয়ে মদীনায় পৌঁছি। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। আমার সাথে যাকাতের বহু উট ছিল, উটগুলো যেন বালুকার উপর লেগে থাকা গাছগুলোতে চরানো যুবক উট। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “তুমি কে?” আমি বললামঃ আমি ইকরাশ ইবনে যুআয়েব (রাঃ)। তিনি বললেনঃ “তুমি দূর পর্যন্ত তোমার বংশ তালিকা বর্ণনা কর।” আমি তখন মুররা ইবনে উবায়েদ পর্যন্ত বলে শুনালাম। আর সাথে সাথে আমি বললাম যে, এগুলো মুররা ইবনে উবায়েদের যাকাতের উট। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুচকি হাসলেন এবং বললেনঃ “এগুলো আমার কওমেরই উট, এগুলো আমার কওমের সাদুকার মাল। এগুলোতে সাদকার উটগুলোর চিহ্ন দিয়ে দাও এবং ওগুলোর সাথে এগুলোকে মিলিয়ে দাও।” অতঃপর তিনি আমার হাত ধরে উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালমা (রাঃ)-এর বাড়ীতে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “খাবার কিছু আছে কি?" উত্তরে তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ আছে।" অতঃপর আমাদের কাছে চুর্ণ করা রুটির একটা বড় গামলা পাঠানো হলো। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এবং আমি খেতে শুরু করলাম। আমি এদিক ওদিক হতে খাবার উঠাতে লাগলাম। তখন তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমার হাত ধরে নিলেন এবং বললেনঃ “হে ইকরাশ (রাঃ)! এটা তো একই প্রকারের খাদ্য, সুতরাং একই জায়গা হতে খেতে থাকো। এরপর রসাল খেজুর অথবা শুষ্ক খেজুরের একটি থালা আসলো। আমি ওটা হতে শুধু আমার সামনের দিক হতে খেতে লাগলাম। তবে রাসূলুল্লাহ (সঃ) পছন্দ মত থালার এদিক ওদিক হতে নিয়ে খাচ্ছিলেন এবং আমাকেও বললেনঃ “হে ইকরাশ (রাঃ)! এখানে নানা প্রকারের খেজুর আছে। সুতরাং যেখান হতে ইচ্ছা খাও।” তারপর পানি আসলো। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর হাত ধৌত করলেন এবং ঐ ভিজা হাত স্বীয় চেহারার উপর, দুই বাহুর উপর এবং মাথার উপর তিনবার ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ “হে ইকরাশ (রাঃ)! এটা অযু হলো ঐ জিনিস হতে যাকে আগুনে পরিবর্তিত করে ফেলেছে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) ও ইমাম ইবনে মাজাহ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে গারীব বলেছেন)হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বপ্ন খুব পছন্দ করতেন। কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছে কি না তা তিনি মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করতেন। কেউ কোন স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলে এবং তাতে তিনি আনন্দিত হলে ওটা খুব ভাল স্বপ্ন বলে জানা যেতো। একদা একটি স্ত্রীলোক তার কাছে এসে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার কাছে যেন কেউ আসলো এবং আমাকে মদীনা হতে নিয়ে গিয়ে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দিলো। তারপর আমি এক ধমক শুনলাম, যার ফলে জান্নাতে হৈ চৈ পড়ে গেল। আমি চক্ষু উঠিয়ে তাকালে অমুকের পুত্র অমুক, অমুকের পুত্র অমুককে দেখতে পাই।” এভাবে স্ত্রীলোকটি বারোটি লোকের নাম করেন। এই বারোজন লোকেরই একটি বাহিনীকে মাত্র কয়েকদিন পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। মহিলাটি বলতে থাকেনঃ “এ লোকগুলো আতলাস (সাটিন) কাপড় পরিহিত ছিলেন। তাঁদের শিরাগুলো ফুটতে ছিল। নির্দেশ দেয়া হয়ঃ তাদেরকে নহরে বায়দাখ বা নহরে বায়খে নিয়ে যাও। যখন তারা ঐ নদীতে ডুব দিলেন তখন তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের মত চমকাতে থাকলো। অতঃপর তাদের জন্যে সোনার থালায় খেজুর আনয়ন করা হয় যা তারা ইচ্ছামত খেলেন। তারপর নানা প্রকারের ফল-মূল তাঁদের কাছে হাযির করা হলো যেগুলো চারদিক হতে বাছাই। করে রাখা হয়েছিল। এগুলো হতেও তাঁরা তাঁদের মনের চাহিদা মত খেলেন। আমিও তাঁদের সাথে শরীক হলাম ও খেলাম।” কিছুদিন পর একজন দূত আসলো এবং বললোঃ “অমুক অমুক ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন যাদেরকে আপনি রণাঙ্গনে পাঠিয়েছিলেন।” দূতটি ঐ বারোজনেরই নাম করলো যে বারোজনকে ঐ মহিলাটি স্বপ্নে দেখেছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ সতী মহিলাটিকে আবার ডাকিয়ে নেন এবং তাঁকে বলেনঃ “পুনরায় তুমি তোমার স্বপ্নের বৃত্তান্তটি বর্ণনা কর।” মহিলাটি এবারও ঐ লোকগুলোরই নাম করলেন যাদের নাম ঐ দূতটি করেছিলেন। (এ হাদীসটি হাফিয আবুল ইয়ালা মুসিলী (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)হযরত সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতী ব্যক্তি যেই ফল জান্নাতের গাছ হতে ভেঙ্গে আনবে, সাথে সাথে ঠিক ঐরূপই আর একটি ফল গাছে এসে লেগে যাবে।” (এ হাদীসটি হাফিয আবুল কাসিম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ জান্নাতের পাখী বড় বড় উটের সমান হয়ে জান্নাতের গাছে চরে ও খেয়ে বেড়াবে।” এ কথা শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! তাহলে ঐ পাখী তো বড় নিয়ামত উপভোগ করবে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “যারা এই পাখীর গোশত খাবে তারাই হবে বেশী নিয়ামতের অধিকারী।” তিনবার তিনি একথাই বলেন। তারপর বলেনঃ “হে আবু বকর (রাঃ)! আমি আশা করি যে, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা এই পাখীগুলোর গোশত খাবে।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে)হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা নবী (সঃ)-এর সামনে ‘বা বৃক্ষের আলোচনা হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হে আবু বকর (রাঃ)! তৃবা বৃক্ষ কি তা তুমি জান কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই (সঃ) ভাল জানেন।” তখন তিনি বললেনঃ “এটা হলো জান্নাতের একটি বৃক্ষ যার দৈর্ঘ্য ও বিস্তৃতি যে কত তা একমাত্র আল্লাহই জানেন! এর এক একটি শাখার ছায়ায় একজন অশ্বারোহী সত্তর বছর ধরে চলবে তবুও ওর ছায়া শেষ হবে না। ওর পাতাগুলো খুবই চওড়া ও বড় বড় হবে। ওর উপর বড় বড় উটের সমান সমান পাখী এসে বসবে। তার একথা শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! তাহলে তো এই পাখী বড় রকমের নিয়ামতের অধিকারী হবে?” জবাবে তিনি বলেনঃ “এই পাখীগুলো অপেক্ষা বেশী নিয়ামতের অধিকারী হবে এগুলোকে ভক্ষণকারীরা। আমি আশা করি যে, তুমিও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।” (এ হাদীসটি হাফিয আবু আবদিল্লাহ আল মুকাদ্দাসী (রঃ) তাঁর ‘সিফাতুল জান্নাহ’ নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। শেষের অংশটি হযরত কাতাদা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে)হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কাওসার' সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেনঃ “এটা হলো জান্নাতী নহর, যা মহামহিমান্বিত আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। এর ধারে বড় বড় উটের সমান পাখী রয়েছে। তখন হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “তাহলে তো এ পাখীগুলো বড়ই নিয়ামত উপভোগ করছে?" উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “এগুলোকে ভক্ষণকারীরা এগুলো অপেক্ষাও বেশী নিয়ামতের অধিকারী হবে।” (এটা আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া (রঃ) ও ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান বলেছেন)হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতে একটি পাখী রয়েছে যার সত্তর হাজার পাখা আছে। পাখীটি জান্নাতীর দস্তরখানে আসবে। প্রত্যেক পাখা হতে একপ্রকার রঙ বের হবে। যা দুধের চেয়েও সাদা, মাখনের চেয়েও নরম এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। তারপর দ্বিতীয় পাখা হতে দ্বিতীয় প্রকারের রঙ বের হবে। এভাবে প্রত্যেক পাখা হতে পৃথক পৃথক রঙ বের হয়ে আসবে। তারপর ঐ পাখীটি উড়ে যাবে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি খুবই গরীব। এর বর্ণনাকারী অসাফী এবং তার উস্তাদ দু'জনই দুর্বল)হযরত কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জান্নাতী পাখী বড় বড় উটের মত, যেগুলো জান্নাতের ফল খায় এবং জান্নাতের নহরের পানি পান করে। জান্নাতী যে পাখীর গোশত খাওয়ার ইচ্ছা করবে ঐ পাখী তার সামনে চলে আসবে। সে যত চাইবে যে বাহুর গোশত পছন্দ করবে, খাবে। তারপর ঐ পাখী উড়ে যাবে এবং যেমন ছিল তেমনই হয়ে যাবে। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “জান্নাতের যেই পাখীর গোশত তোমার খাওয়ার ইচ্ছা হবে ঐ পাখীর গোশত রান্নাকৃত অবস্থায় তোমার সামনে এসে যাবে।” (আরবী) শব্দটি অন্য কিরআতে যেরের সাথেও রয়েছে। পেশের সঙ্গে হলে তো অর্থ হবেঃ জান্নাতীদের জন্যে হরসমূহ রয়েছে। আর যেরের সাথে হলে ভাবার্থ এই হবে যে, এটা যেন পূর্ব ই'রাবেরই অনুসারী। যেমনঃ (আরবী)-এই কিরআত এবং যেমন (আরবী)-এই কিরআতে রয়েছে। আর এই অর্থও হতে পারে যে, কিশোরেরা নিজেদের সঙ্গে হুরদেরকেও নিয়ে নিবে। কিন্তু তারা থাকবে তাদের মহলে ও তাঁবুতে, সাধারণভাবে নয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এই হরগুলো এমন হবে যেমন সতেজ, সাদা ও পরিষ্কার মুক্তা হয়ে থাকে। যেমন সূরায়ে সাফফাতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা যেন সুরক্ষিত ডিম্ব।” সূরায়ে রহমানেও এই বিশেষণ তাফসীরসহ গত হয়েছে। এটা তাদের সৎ কার্যের প্রতিদান। অর্থাৎ এই উপঢৌকন তাদের সকর্মেরই ফল।সেথায় তারা শুনবে না কোন অসার অথবা পাপ বাক্য। ঘূণ্য ও মন্দ কথার একটি শব্দও তাদের কানে আসবে না। যেমন অন্য একটি আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সেথায় তারা অসার বাক্য শুনবে না।” (৮৮:১১) হ্যাঁ, তবে তারা শুনবে শুধু ‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের উপঢৌকন হবে তাদের একে অপরকে সালাম করা।" (১০:১০) তাদের কথাবার্তা বাজে ও পাপ হতে পবিত্র হবে।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Baca, Dengar, Cari, dan Renungkan Al-Quran

Quran.com ialah platform dipercayai yang digunakan oleh berjuta-juta orang di seluruh dunia untuk membaca, mencari, mendengar dan merenung Al-Quran dalam pelbagai bahasa. Ia menyediakan terjemahan, tafsir, bacaan, terjemahan perkataan demi perkataan, dan alat untuk kajian yang lebih mendalam, menjadikan al-Quran boleh diakses oleh semua orang.

Sebagai Sadaqah Jariyah, Quran.com berdedikasi untuk membantu orang ramai berhubung secara mendalam dengan al-Quran. Disokong oleh Quran.Foundation , sebuah organisasi bukan untung 501(c)(3), Quran.com terus berkembang sebagai sumber percuma dan berharga untuk semua, Alhamdulillah.

Navigasi
Halaman Utama
Radio Al-Quran
Qari
Tentang Kami
Pemaju (Developers)
Kemas kini produk
Maklum balas
Bantuan
Projek Kami
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Projek tanpa untung yang dimiliki, diurus atau ditaja oleh Quran.Foundation
Pautan yang di gemari

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

Peta lamanPrivasiTerma dan Syarat
© 2026 Quran.com. Hak cipta terpelihara