Aanmelden
Groei voorbij de Ramadan!
Leer meer
Aanmelden
Aanmelden
Taal selecteren
21:79
ففهمناها سليمان وكلا اتينا حكما وعلما وسخرنا مع داوود الجبال يسبحن والطير وكنا فاعلين ٧٩
فَفَهَّمْنَـٰهَا سُلَيْمَـٰنَ ۚ وَكُلًّا ءَاتَيْنَا حُكْمًۭا وَعِلْمًۭا ۚ وَسَخَّرْنَا مَعَ دَاوُۥدَ ٱلْجِبَالَ يُسَبِّحْنَ وَٱلطَّيْرَ ۚ وَكُنَّا فَـٰعِلِينَ ٧٩
فَفَهَّمۡنَٰهَا
سُلَيۡمَٰنَۚ
وَكُلًّا
ءَاتَيۡنَا
حُكۡمٗا
وَعِلۡمٗاۚ
وَسَخَّرۡنَا
مَعَ
دَاوُۥدَ
ٱلۡجِبَالَ
يُسَبِّحۡنَ
وَٱلطَّيۡرَۚ
وَكُنَّا
فَٰعِلِينَ
٧٩
En Wij deden Soelaimân (de zaak) begrijpen. En aan ieder van hen gaven Wij wijsheid en kennis. En Wij maakten Dâwôcd met de bergen en de vogels dienstbaar om (Allah's) Glorie te prijzen, Eii Wij waren het Die dat deden.
Tafseers
Lagen
Lessen
Reflecties
Antwoorden
Qiraat
Hadith
Je leest een tafsir voor de groep verzen 21:78tot 21:82

৭৮-৮২ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, ওটা ছিল আঙ্গুরের ক্ষেত্র বা বাগান। ঐ সময় আঙ্গুর গাছের গুচ্ছ বের হয়েছিল। (আরবী) শব্দের অর্থ হলো রাত্রিকালে পশুর চারণ ভূমিতে চরতে থাকা। দিবাভাগে চরাকে আরবী ভাষায় (আরবী) বলা হয়। হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, ঐ বাগানটিকে বকরীগুলি নষ্ট করে দেয়। হযরত দাউদ (আঃ) ফায়সালা দেন যে, বাগানের ক্ষতি পুরণ স্বরূপ বকরীগুলি বাগানের মালিক পেয়ে যাবে। হযরত সুলাইমান (আঃ) এই ফায়সালা শুনে আরয করেনঃ “ হে আল্লাহর নবী (আঃ)! এটা ছাড়া অন্য একটা ফায়সালা করা যেতে পারে তো?” হযরত দাউদ (আঃ) উত্তরে বললেনঃ “ওটা কি?” তিনি জবাব দিলেনঃ “প্রথমতঃ বকরীগুলি বাগানের মালিকের হাতে সমর্পণ করা হোক। সে ওগুলি দ্বারা ফায়েদা উঠাতে থাকবে। আর বাগান বকরীর মালিককে দেয়া হোক। সে আঙ্গুরের চারার খিদমত করতে থাকবে। অতঃপর যখন আঙ্গুরের গাছ গুলি ঠিক ঠাক হয়ে যাবে এবং পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে তখন বাগানের মালিককে বাগান ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং বাগানের মালিকও বকরীগুলি বকরীর মালিককে ফিরিয়ে দেবে।” এই আয়াতের ভাবার্থ এটাইঃ ‘আমি এই ঝগড়ার সঠিক ফায়সালা সুলাইমানকে (আঃ) বুঝিয়ে দিয়েছিলাম।”হযরত ইবনু আব্বাস (রা) বলেন যে, হযরত দাউদ (আঃ) যখন বকরীগুলি বাগানের মালিককে দিয়ে দেয়ার ফায়সালা করেন তখন বকরীর মালিকরা বেরিয়ে আসে। তাদের সাথে কুকুর ছিল। হযরত সুলাইমান (আঃ) তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমাদের ফায়সালা কি হলো?” তারা তাদের ফায়সালার খবর দিলে তিনি বললেনঃ “আমি সেখানে হাযির থাকলে এই ফায়সালা দেয়া হতো না, বরং অন্য ফায়সালা হতো। তার এ কথা হযরত (আরবী) দাউদের (আঃ) কানে পৌঁছলে তিনি হযরত সুলাইমানকে (আঃ) ডেকে পাঠান এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আমার প্রিয় বৎস! তুমি কি ফায়সালা করতে?” তখন তিনি তাঁর উপরিউক্ত ফায়সালার কথা শুনিয়ে দেন।হযরত মাসরূক (রাঃ) বলেন যে, ঐ বকরীগুলি আঙ্গুর গাছের গুচ্ছ ও পাতা সব খেয়ে ফেলেছিল। তখন হযরত সুলাইমান (আঃ) হযরত দাউদের (আঃ) বিপরীত ফায়সালা দেন যে, ঐ লোকদের বকরীগুলি বাগানের মালিকদের দিয়ে দেয়া হোক এবং ছাগলওয়ালাদেরকে বাগান সমর্পন করা হোক। যত দিন পর্যন্ত বাগান পূর্ব অবস্থায় ফিরে না আসবে ততদিন পর্যন্ত বকরী, বাচ্চা, দুধ এবং অন্যান্য সমস্ত উপকার বাগানের মালিকরা ভোগ করবে। অতঃপর প্রত্যেককে নিজনিজ জিনিস ফিরিয়ে দেয়া হবে।কাযী শুরাইহ্ এর (রাঃ) কাছেও এইরূপ একটি বিচার আসলে তিনি এই ফায়সালা করেন যে, দিনের বেলায় বকরী কোন ক্ষতি করলে ওর কোন ক্ষতিপূরণ করতে হবে না। আর যদি রাত্রি বেলায় ক্ষতি করে তবে বকরীওয়ালাদেরকে যামিন হতে হবে। অতঃপর তিনি এই আয়াতটিই তিলাওয়াত করেন।হযরত সা'দ ইবনু মাহীসাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত বারা ইবনু আযিবের (রাঃ) উন্থী একটি বাগানে প্রবেশ করে এবং বড়ই ক্ষতি করে ফেলে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফায়সালা করেন যে, দিনের বেলায় বাগানওয়ালাদের দায়িত্ব হলো বাগানের হিফাযত করা। আর যদি পশু রাত্রিকালে বাগানের ক্ষতি করে তবে পুশুর মালিকদেরকেই ওর যামিন হতে। হবে (অর্থাৎ ক্ষতি পূরণ করতে হবে)। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রাঃ) ইমাম আবু দাউদ (রাঃ) এবং ইমাম ইবনু মাজাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) এই হাদীসে ইল্লাত সমূহ বের করা হয়েছে। আমরা কিতাবুল আহকামে আল্লাহর ফলে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছি।বর্ণিত আছে যে, হযরত আইয়াম ইবনু মুআবিয়াকে কাযী পদে নিয়োগ করার জন্যে যখন তাঁর কাছে আবেদন জানানো হয় তখন তিনি হযরত হাসান্দ্রে (রাঃ) কাছে এসে কেঁদে ফেলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “হে আবু সাঈদ (রাঃ)! আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমার কাছে এই রিওয়াইয়াত পৌঁছেছে যে, কাযী যদি ইজতিহাদ করার পরেও ভুল করে তবে সে জাহান্নামী হবে। আর যে কুপ্রবৃত্তির প্রতি ঝুঁকে পড়ে সেও জাহান্নামী। কিন্তু যে ইজতিহাদ করার পর সঠিকতায় পৌঁছে যায় সে জান্নাতে যাবে।" তার এ কথা শুনে হযরত হাসান বসরী (রাঃ) বলেনঃ “শুনুন, আল্লাহ তাআলা হযরত দাউদ (আঃ) ও হযরত সুলাইমানের (আঃ) ফায়সালার কথা বর্ণনা করেছেন। আর এটা প্রকাশমান যে, নবীরা (আঃ) ন্যায় বিচারক হয়ে থাকেন এবং তাঁদের কথা দ্বারা এই লোকদের কথা খণ্ডন করা যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমানের (আঃ) প্রশংসা করেছেন বটে, কিন্তু হযরত দাউদকে (আঃ) তিনি নিন্দা করেননি। জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা বিচারকদের নিকট তিনটি কথার অঙ্গীকার নিয়েছেন। প্রথম অঙ্গীকার এই যে, তাঁরা যেন পার্থিব লোভের বশবর্তী হয়ে শরীয়তের আহকাম পরিবর্তন না করেন। দ্বিতীয় অঙ্গীকার এই যে, তারা যেন অন্তরের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তির পিছনে না পড়েন বা প্রবৃত্তির অনুসরণ না করেন। তৃতীয় অঙ্গীকার এই যে, তারা যেন আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকেও ভয় না করেন। তারপর তিনি নিম্নের আয়াতটি পাঠ করেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে দাউদ (আঃ)! আমি তোমাকে যমীনের খলীফা বা প্রতিনিধি বানিয়েছি, সুতরাং তুমি লোকদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা কর এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, অন্যথায় ওটা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিভ্রান্ত করে ফেলবে।” (৩৮:২৬) অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় কর।” (৫:৪৪) অন্য একস্থানে মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা সামান্য বা নগণ্য মূল্যের বিনিময়ে আমার আয়াতসমূহ। বিক্রি করো না।” (৫:৪৪) আমি বলি যে, নবীরা যে নিস্পাপ এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাদেরকে যে সাহায্য করা হয়ে থাকে এ বিষয়ে পূর্বযুগীয় ও পরযুগীয় গুরুজনদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নেই। তাদের ছাড়া অন্যদের ব্যাপারে কথা এই যে, হযরত আম্র ইনবুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “বিচারক যখন ইজতিহাদ ও চেষ্টা করার পর সঠিকতায় পৌঁছে যায় তখন সে দুটো প্রতিদান লাভ করে। আর ইজতিহাদের পর যদি তার ভূল হয়ে যায় তবে তার জন্যে রয়েছে একটি প্রতিদান।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রাঃ) স্বীয় সহীহ্ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন) এহাদীসটি পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছে যে, পুর্ণভাবে চেষ্টা চালানোর পরেও যদি বিচারক ভুল করে দেয় তবে সে জাহান্নামী হবে বলে যে ধারণা ও সন্দেহ হযরত আইয়াস (রাঃ) করেছেন তা ঠিক নয়। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। সুনানের একটি হাদীসে রয়েছে যে, বিচারক তিন প্রকার। এক প্রকারের বিচারক জান্নাতী ও দু'প্রকারের বিচারক জাহান্নামী। যে সত্য ও ন্যায় জানে এবং তদনুযায়ী ফায়সালা করে সে জান্নাতী। যে না জেনে ফায়সালা করে সে জাহান্নামী এবং যে সত্য জেনে শুনে ওর বিপরীত ফায়সালা করে সেও জাহান্নামী। কুরআন কারীমে বর্ণিত এই ঘটনার কাছাকাছিই আর একটি ঘটনা মুসনাদে আহমাদে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “দু'টি মহিলা ছিল, যাদের সাথে তাদের দুটি পুত্র সন্তান ছিল, (তারা ছিল দুগ্ধ পোষ্য শিশু)। একজনের শিশুকে বাঘে ধরে নিয়ে যায়। এখন মহিলা দুটির প্রত্যেকেই একে অপরকে বলেঃ “বাঘে তোমার শিশুকে ধরে নিয়ে গেছে এবং যেটা আছে আমারই।” অবশেষে তারা হযরত দাউদের (আঃ) নিকট এই মুকাদ্দামা পেশ করে। তখন তিনি ফায়সালা দেন যে, শিশুটি বড় স্ত্রী লোকটির প্রাপ্য। অতঃপর তারা দুজন বেরিয়ে আসে। পথে হযরত সুলাইমান (আঃ) ছিলেন। তিনি তাদেরকে ডাকলেন এবং (লোকদেরকে) বললেন “ছুরী নিয়ে এসো। আমি এই শিশুটিকে কেটে দুটুকরা করে দেবো এবং অর্ধেক করে দু’জনকে প্রদান করবো।” এতে বড় স্ত্রী লোকটি চুপ থাকলো। কিন্তু ছোট স্ত্রী লোকটি বললোঃ “আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন! শিশুটিকে কাটবেন ন। এটা বড় স্ত্রী লোকটিরই। সুতরাং তাকেই দিয়ে দিন।" হযরত সুলাইমান (আঃ) প্রকৃত ব্যাপার বুঝে নেন এবং শিশুটিকে ঐ ছোট স্ত্রী লোকটিকে দিয়ে দেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও এটা বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নাসায়ী (রাঃ) এর উপর একটি অনুচ্ছেদ বেঁধেছেন যে, বিচারক যদি নিজের ফায়সালা অন্তরে গোপন রেখে প্রকৃত রহস্য জানবার উদ্দেশ্যে ওর বিপরীত কিছু বলেন তবে তা জায়েয হবে)এ ধরনেরই একটি ঘটনা হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। যে, বানী ইসরাঈলের যুগে একটি সুন্দরী নারী ছিল, যার প্রেমে চারজন নেতৃস্থানীয় লোক আসক্ত হয়ে পড়ে এবং তার সাথে ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়ার ইচ্ছা করে। কিন্তু ঐ নারী তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে। তখন তারা তার প্রতি চরম দুঃখিত ও রাগান্বিত হয় এবং চারজন একমত হয়ে হযরত দাউদের (আঃ) বিচারালয়ে উপস্থিত হয় ও সাক্ষ্য প্রদান করে যে, সে তার কুকুরের দ্বারা নিজের কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করে। চার জনের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে হযরত দাউদ (আঃ) মহিলাটিকে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা করার নিদের্শ দেন। ঐ দিনই সন্ধ্যায় হযরত সুলাইমান (আঃ) নিজের সমবয়সী ছেলেদের নিয়ে বসেন। তিনি বিচারক হন এবং চার জন ছেলে ঐ লোকগুলির মত তার কাছে ঐ মুকাদ্দামা পেশ করে এবং একটি স্ত্রীলোকের সম্বন্ধে ঐ কথাই বলে। হযরত সুলাইমান (আঃ) ঐ চারজনকে পৃথক পৃথক করে দেয়ার নিদের্শ দেন। তার পর একজনকে তিনি তাঁর কাছে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেনঃ “ঐ কুকুরটির রং কেমন ছিল?” সে উত্তরে বলেঃ “কালো”। এরপর দ্বিতীয় জনকে পৃথক ভাবে ডেকে ঐ প্রশ্নই করেন। সে জবাব দেয়ঃ “সাদা।” তিনি তৎক্ষণাৎ ফায়সালা দেন যে, স্ত্রী লোকটির উপর এটা অপবাদ ছাড়া কিছুই নয় এবং এই চারজনকে হত্যা করে দেওয়া হোক।” হযরত দাউদের (আঃ) নিকটও এই ঘটনাটি পেশ করা হলো। তিনি তখনই ঐ চারজন নেতৃ স্থানীয় লোককে ডেকে পাঠান এবং ঐ রূপেই পৃথক পৃথক ভাবে তাদেরকে কুকুরটির রং সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হয়। তারা এক একজন এক এক কথা বলে এবং গড় বড় করে দেয়। হযরত দাউদের (আঃ) কাছে তারা মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়ে যায়। সুতরাং তিনি তাদেরকে হত্যা করে দেয়ার নিদের্শ দেন। (এটা হাফিয আবুল কাসিম ইবনু আসাকির (রাঃ) বর্ণনা করেছেন)মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি বিহঙ্গকুলের জন্যে নিয়ম করে দিয়েছিলাম যে, তারা যেন হযরত দাউদের (আঃ) সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। হযরত দাউদকে (আঃ) এমন মিষ্ট কণ্ঠস্বর দান করা হয়েছিল যে, যখন তিনি মিষ্টি সুরে ও আন্তরিকতার সাথে যরূর পাঠ করতেন। তখন পক্ষীকূল উড়ন বাদ দিয়ে থেমে যেতো এবং তার সুরে সুরে মিলিয়ে আল্লাহর তাসবীহ পাঠে লেগে পড়তো। অনুরূপভাবে পাহাড় পর্বতও তাসবীহ পাঠ করতো। বর্ণিত আছে যে, একদা রাত্রে হযরত আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) কুরআন কারীম পাঠ করছিলেন। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সেখান দিয়ে গমন করছিলেন। তার মিষ্টি সূরে কুরআন পাঠ শুনে তিনি দাড়িয়ে যান এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে শুনতে থাকেন। তারপর তিনি বলেনঃ “একে তো আ'লে দাউদের (আঃ) মত মিষ্টি সুর দান করা হয়েছে। হযরত আবু মূসা (রাঃ) এটা জানতে পেরে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমি যদি জানতাম যে, আপনি আমার কুরআন পাঠ শুনতে ছিলেন। তবে আমি আরো উত্তম রূপে পাঠ করতাম।”হযরত আবু উছমান নাহদী (রাঃ) বলেনঃ “ আমি কোন উত্তম বাজনার মধ্যে ঐ মজা পাই নাই যা হযরত আবূ মূসার (রাঃ) কণ্ঠস্বরে পেতাম।” সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার উত্তম কণ্ঠ স্বরকে হযরত দাউদের (আঃ) উত্তম ও মিষ্ট কণ্ঠস্বরের একটি অংশ বলেছেন। তাহলে স্বয়ং হযরত দাউদের কণ্ঠস্বর কত মধুর ছিল তা সহজেই অনুমেয়।আল্লাহ তাআলা তাঁর আর একটি অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেনঃ “আমি দাউদকে (আঃ) তোমাদের জন্যে বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে ওটা তোমাদেরকে তোমাদের যুদ্ধে রক্ষা করে। তার যুগের পূর্বে হল্কা বিহীন বর্ম নির্মিত হতো। হলকা বিশিষ্ট বর্ম তিনিই তৈরী করেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) “তার জন্যে আমি লৌহকে নমনীয় করেছিলাম। (হে দাউদ (আঃ)! উদ্দেশ্য এই যে, যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরী করতে এবং বুননে পরিমাণ রক্ষা করতে পার।" (৩৪:১০-১১) এই বর্ম যুদ্ধের মাঠে কাজে লাগতো। সুতরাং এটা ছিল এমনই নিয়ামত যার কারণে মানুষের উচিত মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। তাই তিনি বলেনঃ তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না?"এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আমি সুলাইমানের (আঃ) বশীভূত করেছিলাম উদ্দাম বায়ুকে, ওটা তার আদেশক্রমে প্রবাহিত হতো সেই দেশের দিকে যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি। অর্থাৎ ঐ বায়ু তাকে সিরিয়ায় পৌঁছিয়ে দিতো। মহান আল্লাহ বলেনঃ প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত হযরত সুলাইমান (আঃ) তার লোক-লশকর, সাজ-সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্রসহ তার সিংহাসনে বসে যেতেন। অতঃপর বায়ু তাঁকে তাঁর গন্তব্য স্থানে ক্ষণিকের মধ্যে পৌছিয়ে দিতো। সিংহাসনের উপর হতে পাখী পালক দ্বারা তাকে ছায়া করতো। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তার অধীন করে দিলাম বায়ুকে, যা তার আদেশে সে যেখানেই ইচ্ছা করতো সেথায় মৃদুমন্দ গতিতে প্রবাহিত হতো।" (৩৮:৩৬) মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(আমি সুলাইমানের (আঃ) অধীন করেছিলাম বায়ুকে) যা প্রভাতে এক মাসের পথ অতিক্রম করতো এবং সন্ধ্যায় এক মাসের পথ অতিক্রম করতো।” (৩৪:১২) হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাঃ) বলেন যে, ছয় লক্ষ চেয়ার রাখাহতো। তার পাশে বসতো মু'মিন মানুষ এবং তাদের পিছনে বসতো মু'মিন জ্বিন। তারপর তাঁর নির্দেশক্রমে পক্ষীকুল সবারই উপর ছায়া করতো। অতঃপর তার আদেশ অনুযায়ী বায়ু তাঁকে নিয়ে চলতে শুরু করতো। (এটা ইবনু আবি হাতিম (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) তার উপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উবাইদিল্লাহ ইবনু উমাইর (রাঃ) বলেন যে, হযরত সুলাইমান (আঃ) বাতাসকে হুকুম করতেন তখন ওটা স্থূপাকারে জমা হয়ে যেতো, যেন ওটা পাহাড়। তারপর তিনি তাঁর ফরাশ আনার নিদের্শ দিতেন। তখন উচু জায়গায় রেখে দেয়া হতো। অতঃপর তিনি তাঁর ডানা ওয়ালা ঘোড়া আনার হুকুম করতেন।এরপর তিনি ঐ ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে স্বীয় ফরাশে উঠে বসতেন। অতঃপর তাঁর নির্দেশক্রমে বায়ূ তাকে উপরে উঠিয়ে নিয়ে যেতো। ঐ সময় তিনি মাথা নীচু করে থাকতেন। ডানে বামে মোটেই তাকাতেন না। এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য হতো বিনয় ও আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। কেননা, নিজের নীচতার জ্ঞান তাঁর ছিল। অতঃপর বায়ুকে তিনি যেখানে নামাবার হুকুম করতেন সেখানেই নামিয়ে দিতো।অনুরূপভাবে অবাধ্য শয়তানদেরকেও আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগত করে দিয়েছিলেন। তার জন্যে ডুবুরী কাজ করতো। তারা সমুদ্রে ডুব দিয়ে ওর তলদেশ হতে মণি মুক্তা বের করে আনতো। আরো বহু কাজ তারা করতো।যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এবং শয়তানদেরকে (আমি তার বাধ্য করেছিলাম), যারা সবাই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী।” (৩৮:৩৭) এরা ছাড়া অন্যান্য শয়তানরাও তার অনুগত ছিল, যাদেরকে শিকলে আবদ্ধ রাখা হতো।মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতাম। কোন শয়তানই তার কোন ক্ষতি করতে পারতো না। বরং সবাই ছিল তার অনুগত ও অধীনস্থ। কেউই তাঁর কাছে ঘেঁষতে পারতো না। তাদের উপর তাঁরই শাসন চলতো। যাকে ইচ্ছা তিনি বন্দী করতেন এবং যাকে ইচ্ছা ছেড়ে দিতেন। তাদের কথাই বলেনঃ ‘অন্যান্য জ্বিন ছিল যারা শৃংখলে আবদ্ধ থাকতো।'

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Lees, luister, zoek en reflecteer over de Koran

Quran.com is een vertrouwd platform dat wereldwijd door miljoenen mensen wordt gebruikt om de Koran in meerdere talen te lezen, te doorzoeken, te beluisteren en erover na te denken. Het biedt vertalingen, tafseer, recitaties, woord-voor-woordvertalingen en tools voor een diepere studie, waardoor de Koran voor iedereen toegankelijk is.

Als Sadaqah Jariyah zet Quran.com zich in om mensen te helpen een diepe verbinding met de Koran te maken. Ondersteund door Quran.Foundation , een non-profitorganisatie. Quran.com blijft groeien als een gratis en waardevolle bron voor iedereen, Alhamdulillah.

Navigeren
Home
Koran Radio
reciteurs
Over ons
Ontwikkelaars
Product updates
Feedback
Hulp
Onze projecten
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Quran.AI
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Non-profitprojecten die eigendom zijn van, beheerd worden door of gesponsord worden door Quran.Foundation.
Populaire links

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

SitemapPrivacyAlgemene voorwaarden
© 2026 Quran.com. Alle rechten voorbehouden